শুভ্র আঁচলে শরৎ নামে ক্যাম্পাসে
জান্নাতুল লামিশা, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২০:০৭
ছবি: সংগৃহীত
শহরের কংক্রিট থেকে বহু দূরে, গণ বিশ্ববিদ্যালয় যেন প্রকৃতির একটু বেশিই কাছের। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের এই সময়েও এখানকার শিক্ষার্থীরা টের পায় প্রকৃতির ঋতু বদলের ছোঁয়া। আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের সঙ্গে পথের ধারে সাদা কাশফুলের দোল, দুটো মিলে যেন শরতের আগমনী বার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে।
দিনভর ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট আর নানা ব্যস্ততা শেষে শিক্ষার্থীরা যখন ক্লান্ত পায়ে ঘরে ফিরতে শুরু করে, তখন প্রাঙ্গণের আশপাশের কাশফুলগুলো পথের ধারে দাঁড়িয়ে থাকা এক টুকরো স্নিগ্ধ স্বস্তি হয়ে ওঠে। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশের শীষগুলো ক্লান্ত দিনের শেষে মনে বইয়ে দেয় প্রশান্তির হাওয়া।
সবুজের বুক চিরে ফুটে থাকা শুভ্র কাশ, দূরের গাছপালা আর মেঘে ঢাকা আকাশ। প্রকৃতির এই সহজ আয়োজন মুহূর্তেই বদলে দেয় প্রাঙ্গণের চেনা দৃশ্য। ব্যস্ততার ফাঁকে একটু থেমে কাশফুলের দিকে তাকালে মনে হয়, দিনের সব ক্লান্তি যেন কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে গেছে।
ক্লাসরুমের চার দেয়ালের বাইরে প্রকৃতির এই দৃশ্য শিক্ষার্থীদের কাছে হয়ে ওঠে এক নীরব সঙ্গী। কেউ ছবি তোলে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্পে মাতে, আবার কেউ হয়তো নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকে দুলতে থাকা কাশের দিকে। তাই শরতের কাশফুল গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে শুধু ঋতুর সৌন্দর্য নয়, দিনশেষের ক্লান্ত পথে এক টুকরো প্রশান্তি।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা ফারজানা বলেন, কথায় আছে, গোবরে পদ্মফুল ফোটে। আসলেই কি পদ্ম ফোটে? জানি না। তবে এই ইট-পাথরের নগরীতে পাকা রাস্তার পাশে এত সুন্দর ফুল ফোটে কীভাবে! আমাদের ক্যাম্পাসেও দেখেছি, পাকা রাস্তার ধারেই কী সুন্দর কাশফুল ফুটে থাকে। অনাদরেই বেড়ে ওঠে ওরা, অথচ সঙ্গে আনে আনন্দ, শুভ্রতা আর শরতের আবহ। অনাদরের এই ফুলগুলো দেখলেই মনে দোলা দেয়।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী সাজেদুল ইসলাম সাজু বলেন, ক্যাম্পাসে কাশফুল দেখলে আমার ছোটবেলার অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। শরতে পরিবারের সঙ্গে কাশফুল দেখতে ধামরাইয়ের রূপনগরে ঘুরতে যেতাম। এখন ব্যস্ততার কারণে সেই সময়গুলো আর হয়ে ওঠে না। তবে ক্যাম্পাসের কাশফুল দেখলেই পুরোনো সেইসব দিনের কথা মনে পড়ে যায়।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

