সিমরিন লুবাবা
এক সময়ের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী ও অভিনেতা আবদুল কাদেরের নাতনি সিমরিন লুবাবার বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। সম্প্রতি লুবাবা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ধর্মীয় আবহে বিয়ের ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে এই বিতর্ক। তবে নেটিজেনদের বড় একটি অংশ লুবাবার বয়স নিয়ে প্রশ্ন তুলে এটিকে ‘বাল্যবিবাহ’ হিসেবে দাবি করছেন এবং তার বাবা-মায়ের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বিকেলে লুবাবা ফেসবুকে একটি
অস্পষ্ট ছবি শেয়ার করে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। দুইটি আত্মা, এক কিবলা। দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য।
আল্লাহ আমাকে একজন দ্বীন শেখার সঙ্গী উপহার দিয়েছেন।” এই পোস্টের পর অভিনেত্রী বর্ষা
লুবাবাকে অভিনন্দন জানিয়ে এবং ‘বিবাহিত জীবন সুখের হোক’ বলে মন্তব্য করলে বিয়ের বিষয়টি আরও জোরালো হয়।
যদিও লুবাবা বা তার পরিবার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই নিশ্চিত করেনি তাই বিষয়টি
নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
লুবাবার বিয়ের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই
তার বয়স নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সংবাদপত্রের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০২১ সালে লুবাবা
চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। সেই হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১৫ বা ১৬ বছরের বেশি হওয়ার
কথা নয়। বাংলাদেশের ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭’ অনুযায়ী, কনের বয়স ন্যূনতম ১৮ এবং বরের বয়স
২১ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। ১৮ বছরের নিচে বিয়ে হলে তা আইনত ‘বাল্যবিবাহ’ হিসেবে গণ্য হবে।
এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আজমীর
সুমী গণমাধ্যমকে জানান, ১৮ বছরের নিচে মেয়ের বিয়ে হলে সেই রেজিস্ট্রেশন বৈধ নয়। যদি
কেউ বয়স গোপন করে বিয়ে করেন, তবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তির বিধান
রয়েছে।
স্বামীর শাস্তি (যদি প্রাপ্তবয়স্ক হন):
লুবাবার স্বামী যদি প্রাপ্তবয়স্ক (২১ বছরের উপরে) হন এবং লুবাবা অপ্রাপ্তবয়স্ক হন,
তবে স্বামীর সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৩ মাসের জেল হতে পারে। লুবাবার শাস্তি (অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে):
লুবাবা নিজে অপ্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১ মাসের আটকাদেশ বা ৫০ হাজার
টাকা জরিমানা হতে পারে। বাবা-মা ও অভিভাবকদের শাস্তি: বাল্যবিবাহের আয়োজন বা অনুমতি
দেওয়ার অপরাধে লুবাবার বাবা-মায়ের ৬ মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার
টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। কাজীর শাস্তি: যদি কোনো কাজী জেনেশুনে ১৮ বছরের কম
বয়সী মেয়ের বিয়ে নিবন্ধন করেন, তবে তার লাইসেন্স বাতিলসহ জেল ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সচেতন নাগরিক এই
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সিকদার ডায়মন্ড নামে একজন লিখেছেন, “আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে লুবাবার
বাবা-মা এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকেও জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।” আবার অনেকে ধর্মীয়
জীবনে ফিরে যাওয়ার ঘোষণাকে ইতিবাচক দেখলেও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
গত বছর বিনোদন জগত থেকে বিদায় নিয়ে পর্দাপ্রথা
মেনে ধর্মীয় জীবনযাপনের ঘোষণা দিয়েছিলেন লুবাবা। এরপর থেকেই তাকে আর বড় পর্দায় দেখা
যায়নি। বর্তমানে তিনি ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তবে
বিয়ের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো স্পষ্ট বক্তব্য
পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

