‘জিমি রয়’ হিসেবে শুভর কোনো বিকল্প ছিল না: সৌমিক সেন
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৪
আরিফিন শুভ
ঢাকাই সিনেমার ‘অ্যাকশন স্টার’ আরিফিন শুভর আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটেছে রাজকীয়ভাবে। ভারতীয় পরিচালক সৌমিক সেন নির্মিত ‘জ্যাজ সিটি’ ওয়েব সিরিজে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন তিনি। সত্তরের দশকের পটভূমি ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই সিরিজটি বর্তমানে সনি লিভ-এর অন্যতম সফল প্রজেক্ট। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পরিচালক সৌমিক সেন জানিয়েছেন, কেন এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি বাংলাদেশের আরিফিন শুভকে কাস্ট করেছেন।
ভারতে অনেক প্রতিভাবান অভিনেতা থাকা সত্ত্বেও
কেন শুভকে বেছে নিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে সৌমিক সেন পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন,
“কেন নয়? আরিফিন
শুভ একজন জাত অভিনেতা, তার পরিচয় কেবল তারকা হিসেবে নয়। জিমি রয় চরিত্রের জন্য আমি
অনেকের অডিশন নিয়েছি, সবাই ভালো কাজ করেছেন। কিন্তু শুভর অডিশন দেখার পর আমার মনে হয়েছে,
এই চরিত্রের জন্য তার কোনো দ্বিতীয় বিকল্প নেই।”
পরিচালক জানান, এই সিরিজে শুভকে বাংলা,
হিন্দি, উর্দু ও ইংরেজি—এই চারটি ভাষায় সংলাপ বলতে হয়েছে। শুভর এই ভাষাগত দক্ষতা এবং
চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যাওয়ার ক্ষমতা পরিচালককে মুগ্ধ করেছে। সৌমিকের মতে, যখন দর্শক
কোনো অভিনেতাকে আগে থেকে খুব বেশি চেনে না, তখন সেই অভিনেতা পর্দার চরিত্র হয়ে ওঠা
সহজ হয়। প্রতীক গান্ধীর ‘স্ক্যাম ১৯৯২’-এর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দর্শক প্রথমে চরিত্রকে চিনবে,
তারপর অভিনেতাকে—শুভ ঠিক সেই কাজটিই করেছেন।
কলকাতায় বড় হওয়া সৌমিক সেন স্বীকার করেন
যে, দীর্ঘ সময় তিনি বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস জানতেন না। আন্তর্জাতিক
মাতৃভাষা দিবস যে বাঙালির রক্তস্নাত ইতিহাস থেকে এসেছে, তা জানার পর তিনি স্তম্ভিত
হন। তিনি বলেন, “আমরা ১৯৭১ সালের যুদ্ধ নিয়ে ‘বর্ডার’-এর মতো সিনেমা দেখেছি যা পশ্চিম
সীমান্ত কেন্দ্রিক। কিন্তু পূর্ব সীমান্তে (বাংলাদেশ) কী ঘটেছিল, তা নিয়ে আমরা খুব
কম কথা বলেছি। সেই না বলা গল্পগুলোই আমি ‘জ্যাজ সিটি’-তে তুলে ধরতে চেয়েছি।”
আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে
দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে বিতর্কের রেশ থাকলেও শুভকে কাস্ট করা নিয়ে কোনো দ্বিধা
ছিল না পরিচালকের। তিনি মনে করেন, ভারত সবসময়ই প্রতিভাকে স্বাগত জানায়। বাংলাদেশের
সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন একটি চমৎকার সময় পার করছে।
দুই বাংলার মানুষের মধ্যে ভাষা ও সংস্কৃতির যে অভিন্ন টান রয়েছে, তা আমাদের আরও কাছাকাছি
নিয়ে আসে।”
উল্লেখ্য, ‘জ্যাজ সিটি’ সনি লিভ প্ল্যাটফর্মের প্রথম
বাংলা ভাষার অরিজিনাল সিরিজ। এতে শুভর অভিনয় যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনি সত্তরের দশকের
কলকাতার জ্যাজ মিউজিক সিন ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার সংমিশ্রণ দর্শকদের নতুন
এক সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। আরিফিন শুভর এই সাফল্য ঢাকাই সিনেমার অন্য অভিনেতাদের
জন্যও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের দ্বার উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

