আফিয়া নুসরাত বর্ষা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত ও সফল তারকা দম্পতি অনন্ত জলিল ও আফিয়া নুসরাত বর্ষা। দীর্ঘ দেড় দশকের ক্যারিয়ারে রুপালি পর্দায় বহু চমক উপহার দিলেও এবার জীবনের নতুন এক ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল স্পষ্টভাবে আভাস দিয়েছেন যে, খুব শিগগিরই চিত্রনায়িকা বর্ষাকে সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যেতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত জলিল বলেন,
"বর্ষা হয়তো আজ হোক বা কাল, পলিটিক্সে (রাজনীতি) আসবে। ওর মধ্যে একজন নেত্রী হওয়ার
সব গুণ আছে। বর্ষার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন পাওয়ার এবং ধৈর্য অত্যন্ত প্রবল।" বর্ষার
জনসেবার উদাহরণ দিতে গিয়ে অনন্ত আরও বলেন, "ও যখন গ্রামে যায়, নিজ হাতে আট-নয়
ঘণ্টা দাঁড়িয়ে মানুষকে সাহায্য করে। আমরা সাধারণত লোক দিয়ে কাজ করিয়ে চলে আসি, কিন্তু
বর্ষা তেমনটা করে না। ও স্কুলব্যাগে টাকা নিয়ে নিজ হাতে তা মানুষের মাঝে বিতরণ করে।
ওর এই ধৈর্য ও দেশসেবার মানসিকতা প্রশংসনীয়।"
রাজনীতিতে নামার ক্ষেত্রে সততা ও আদর্শের
গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অনন্ত জলিল জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর
প্রসঙ্গ টেনে আনেন। হাসনাতের সাহসী বক্তব্যের প্রশংসা করে অনন্ত বলেন, "হাসনাত
আবদুল্লাহর কথাগুলো দেখুন, তিনি একদম সরাসরি সত্য কথাগুলো সবার সামনে স্পষ্ট করে বলেন।
তিনি চাঁদাবাজি বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সৎ পথে থেকেও যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেওয়া
যায়, তিনি তার প্রমাণ।" অনন্ত মনে করেন, নেতৃত্ব যদি সৎ ও জনমুখী হয়, তবে জনগণকে
পাশে পাওয়া যায় এবং কাউকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয় না।
দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার কাজ কমিয়ে দিয়েছেন
এই জুটি। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে তাঁদের অভিনীত ‘দ্য স্পাই’ ও ‘নেত্রী: দ্য লিডার’ সিনেমা দুটি
নির্মাণাধীন রয়েছে। হাতে থাকা এই অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করেই তাঁরা স্থায়ীভাবে চলচ্চিত্র
জগৎ থেকে বিদায় নেবেন এবং পুরোপুরি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন।
এই জুটিকে সর্বশেষ বড় পর্দায় দেখা গিয়েছিল ‘কিল হিম’ সিনেমায়। ২০১০
সালে ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমার মাধ্যমে
অভিষেক হওয়া এই জুটি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বহু সিনেমা দর্শকদের
উপহার দিয়েছেন। এখন রুপালি পর্দার সেই আলোচিত ‘নেত্রী’ বাস্তবের রাজপথে
কতটা সফল হন, সেটাই দেখার অপেক্ষায় ভক্তরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

