মহাকাশ মানেই কি কেবল নিস্তব্ধতা আর যান্ত্রিক শব্দ? একদমই নয়। পৃথিবী থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণরত আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠছেন পপ, টেকনো আর হিপহপ গানের তালে। নাসার এই বিশেষ মিশনে গান কীভাবে নভোচারীদের পৃথিবীর সাথে এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে রাখছে, তা নিয়ে উঠে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় র্যাপার ডেনজেল কারির ‘টোকিও ড্রিফটিং’ গানটি এবারের আর্টেমিস-২ মিশনের ওয়েক-আপ প্লেলিস্টে জায়গা করে নিয়েছে। নিজের গান মহাকাশে বাজছে শুনে অভিভূত কারি বলেন, “আমি যদি ওই নভোচারীদের সামনে পেতাম, তবে আমাকে মনে রাখার জন্য তাদের প্রত্যেককে জড়িয়ে ধরতাম।”
তিনি স্বপ্ন
দেখেন প্রথম র্যাপার হিসেবে মহাকাশে পারফর্ম করার। ব্রিটিশ নভোচারী টিম পিক বলেন,
মহাকাশে গান শোনাটা কেবল বিনোদন নয়, এটি পৃথিবীর সাথে এক গভীর মানসিক সংযোগ। তাঁর ভাষায়,
“যখন আপনি জানলার
বাইরে অসীম অন্ধকার আর তার মাঝে ছোট্ট নীল মার্বেলের মতো পৃথিবীকে দেখেন, তখন পরিচিত
কোনো গান শুনলে মনে হয় আপনি বাড়ির সাথেই আছেন। এটি পরিবার ও বন্ধুদের কথা মনে করিয়ে
দেয়।”
মহাকাশে গান বাজানোর এই প্রথা শুরু হয়েছিল
১৯৬০-এর দশকে নাসার ‘জেমিনি’ প্রোগ্রামের সময় থেকে। মার্কিন
নৌবাহিনীর সকালে গান গেয়ে দিন শুরু করার ঐতিহ্য থেকেই এটি মহাকাশ বিজ্ঞানে যুক্ত হয়।
এমনকি ১৯৬৫ সালে জেমিনি-৬এ মিশনের নভোচারীরা লুকিয়ে একটি হারমোনিকা এবং বেল নিয়ে গিয়েছিলেন
এবং মহাকাশ থেকে ‘জিঙ্গল বেলস’ বাজিয়ে নিয়ন্ত্রণ
কক্ষকে চমকে দিয়েছিলেন।
আর্টেমিস-২ মিশনের ৯টি গানের প্লেলিস্টটি
তৈরি করেছেন নভোচারীদের বন্ধু ও পরিবারের সদস্যরা। এই তালিকায় জন লিজেন্ড, কুইন এবং
ডেভিড বোয়ির মতো কিংবদন্তিদের গান রয়েছে। মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান জানান, একটি
নির্দিষ্ট গান তাঁকে তাঁর মেয়েদের সাথে কাটানো ছুটির দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। অন্যদিকে,
ক্রিস্টিনা কোচ জানান, গানগুলো তাঁর মহাকাশ যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে আনন্দময় করে
তুলছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

