মৃত্যু পথযাত্রীদের ‘ডেথ ডুলা' হচ্ছেন নিকোল কিডম্যান
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৯
নিকোল কিডম্যান
পর্দায় অসংখ্য কালজয়ী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছেন তিনি। তবে এবার অভিনয়ের জন্য নয়, বাস্তবের এক কঠিন অথচ মানবিক দায়িত্ব পালনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন হলিউড সুপারস্টার নিকোল কিডম্যান। জীবনের শেষ প্রান্তে থাকা মানুষদের মানসিক ও আত্মিক শান্তি জোগাতে তিনি প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন 'ডেথ ডুলা' হিসেবে।
সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত
এক বক্তৃতায় ৫৮ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী নিজেই তাঁর এই নতুন যাত্রার কথা প্রকাশ করেন।
'ডুলা' শব্দটি সাধারণত সন্তান প্রসবের সময় সহায়তাকারী নারীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হলেও,
'ডেথ ডুলা' বা 'এন্ড-অফ-লাইফ ডুলা'রা কাজ করেন ঠিক তার উল্টো প্রান্তে— অর্থাৎ মৃত্যুর
প্রহর গুনতে থাকা ব্যক্তিদের পাশে থেকে তাঁদের অন্তিম সময়টুকু শান্তিপূর্ণ করার চেষ্টা
করেন।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভেনিস চলচ্চিত্র
উৎসবে যখন নিকোল কিডম্যান সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর মা জ্যানেল
অ্যান মারা যান। শোকের কারণে তিনি পুরস্কার গ্রহণ করতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। মায়ের সেই অন্তিম মুহূর্তের স্মৃতি স্মরণ করে কিডম্যান
বলেন, "আমার মা যখন চলে যাচ্ছিলেন, তিনি খুব একা ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে যতটুকু
সম্ভব আমরা করেছি, কিন্তু আমাদের সন্তানদের লালন-পালন এবং কর্মজীবনের ব্যস্ততার মাঝেও
একটা সীমাবদ্ধতা ছিল। বাবা আগেই চলে যাওয়ায় মা আরও একা হয়ে পড়েছিলেন।"
কিডম্যান আরও যোগ করেন, "সেই সময়
আমার মনে হয়েছিল, পৃথিবীতে যদি এমন কিছু মানুষ থাকতেন যারা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে মৃত্যুপথযাত্রীর
পাশে বসে তাঁকে সান্ত্বনা ও সেবা দিতে পারতেন। বিষয়টি শুনতে কিছুটা অদ্ভুত মনে হতে
পারে, কিন্তু এটি এখন আমার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।"
নিকোল কিডম্যান একা নন, অস্কারজয়ী বিখ্যাত
চলচ্চিত্র নির্মাতা ক্লোয়ি ঝাও-ও সম্প্রতি 'ডেথ ডুলা' হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ঝাও
জানান, মৃত্যুর প্রতি তাঁর তীব্র ভীতি দূর করতেই তিনি এই জগতের সাথে পরিচিত হতে চেয়েছেন।
একজন ডেথ ডুলা কোনো চিকিৎসাসেবা দেন না।
তাঁদের কাজ মূলত মনস্তাত্ত্বিক। তাঁরা অসুস্থ ব্যক্তির শেষ ইচ্ছা পূরণ, পরিবারকে শোক
সামলাতে সাহায্য করা এবং মৃত্যুর সময়টি যাতে ভীতিহীন ও মর্যাদাপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত
করেন। নিকোল কিডম্যানের মতো একজন বিশ্বখ্যাত তারকার এমন উদ্যোগ মৃত্যুকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি
এবং অন্তিম সময়ের সেবা সম্পর্কে জনমনে নতুন সচেতনতা তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

