ওয়াল্ট ডিজনি
বিশ্ববিখ্যাত বিনোদন সংস্থা ওয়াল্ট ডিজনি তাদের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রায় ১,০০০ জন কর্মী ছাঁটাই করার ঘোষণা দিয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রধান নির্বাহী (সিইও) জশ ডি’আমারো এক ইমেইল বার্তায় কর্মীদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মূলত ব্যয় সংকোচন এবং কর্মপদ্ধতি আরও আধুনিক করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে,
ডিজনির এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়বে মার্কেটিং গ্রুপ, স্টুডিও এবং টেলিভিশন ব্যবসা, ইএসপিএন
এবং প্রযুক্তি বিভাগসহ কর্পোরেট পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরে। চলতি সপ্তাহ থেকেই আক্রান্ত
কর্মীদের নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। সিইও জশ ডি’আমারো তাঁর মেইলে
উল্লেখ করেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিনোদন জগতের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে এবং ডিজনির কর্মীবাহিনীকে
আরও প্রযুক্তি-নির্ভর ও চটপটে করে তুলতেই এই ভূমিকা নেওয়া হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হলিউডের অন্যান্য
স্টুডিওর মতো ডিজনিও বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে
প্রথাগত টেলিভিশনের দর্শক কমে যাওয়া, বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়া এবং স্ট্রিমিং
প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণেই বড় বড় কোম্পানিগুলো কর্মী ছাঁটাই
করতে বাধ্য হচ্ছে। ডিজনির পাশাপাশি ওয়ার্নার ব্রস এবং প্যারামাউন্টের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও
সম্প্রতি কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে।
এর আগে ২০২৩ সালে ডিজনি প্রায় ৭,০০০ কর্মী
ছাঁটাই করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রায় ৫.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ বাঁচানো। গত বছরের সেপ্টেম্বর
পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ডিজনির মোট কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৩১ হাজার। তবে নতুন
সিইও জশ ডি’আমারোর দায়িত্ব
গ্রহণের পরপরই এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা বিনোদন ও প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম
দিয়েছে। বিশেষ করে ক্রীড়া বিষয়ক চ্যানেল ইএসপিএন এবং ডিজনির মূল স্টুডিও ব্যবসায় এই
ছাঁটাইয়ের প্রভাব কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

