বাংলাদেশি শ্রোতাদের আবেগ আমাকে ছুঁয়ে যায়: শ্রীকান্ত আচার্য
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৪
শ্রীকান্ত আচার্য
সুর আর কণ্ঠের জাদুতে দুই বাংলার শ্রোতাদের কয়েক দশক ধরে আবিষ্ট করে রেখেছেন তিনি। তিনি শ্রীকান্ত আচার্য। শিকড়ের টানে এবং সুরের আদান-প্রদানে বারবার বাংলাদেশে এলেও এবারের সফরটি তাঁর জন্য একটু বেশিই স্পেশাল। পয়লা বৈশাখের আমেজে এবার সপরিবারে ঢাকায় এসেছেন এই গুণী শিল্পী।
দীর্ঘ ২৬ বছরের সংগীতজীবনে অসংখ্যবার বাংলাদেশে
এসেছেন শ্রীকান্ত। কিন্তু সময়ের অভাবে অনেক ঐতিহাসিক স্থানই দেখা হয়ে ওঠেনি। এবারের
সফরে সেই অতৃপ্তি ঘুচিয়েছেন তিনি। সপরিবারে ঘুরে দেখেছেন রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী
জাতীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। ২৬ বছর পর প্রথমবার এই ঐতিহাসিক মন্দির পরিদর্শন
করে তিনি বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে গান গেয়ে বেড়ানো
এই শিল্পীর কাছে বাংলাদেশের শ্রোতাদের কদর সবার ওপরে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন খুলে
প্রশংসা করেন বাংলাদেশি ভক্তদের। শ্রীকান্ত বলেন, “গত ২৬ বছরে আমি পৃথিবীর বহু দেশে অনুষ্ঠান
করেছি। কিন্তু একটা সত্যি কথা বলতে দ্বিধা নেই—বিদেশের মাটিতে আমার শ্রোতাদের একটি
বিশাল অংশই বাংলাদেশি। তারা যে গভীর আবেগ আর নিবিষ্টতা নিয়ে গান শোনে, তা আমাকে বারবার
ছুঁয়ে যায়। আমি নিজেও একজন আবেগী মানুষ, তাই এই প্রাণের সংযোগ আমার কাছে পরম পাওয়া।”
বাংলাদেশের আতিথেয়তা আর খাবারের প্রশংসা
করতে গিয়ে শ্রীকান্ত জানান তাঁর প্রিয় পদের কথা। তিনি বলেন, “বিরিয়ানি বা অন্যান্য আধুনিক খাবার ওপার
বাংলাতেও (কলকাতা) পাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশে এলে আমার প্রধান আকর্ষণ থাকে এখানকার
নানা পদের ভর্তা। এই ভর্তার স্বাদ ও বৈচিত্র্য একদম অনন্য—এটাই আমাকে বারবার এ দেশে
টানে।”
পয়লা বৈশাখের রঙিন আবহে পরিবারের সদস্যদের
নিয়ে ঢাকার প্রাণচাঞ্চল্য উপভোগ করছেন তিনি। দেশের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর
অনুরাগের কথা জানিয়ে শ্রীকান্ত বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সংস্কৃতির
প্রতি তাঁদের মমতা তাঁকে সবসময় মুগ্ধ করে।
উল্লেখ্য, শ্রীকান্ত আচার্যের কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত
থেকে শুরু করে আধুনিক গান—সবই বাংলাদেশের মানুষের ড্রয়িংরুমের নিয়মিত সঙ্গী। তাঁর এবারের
সফর কেবল ব্যক্তিগত ভ্রমণ নয়, বরং দুই বাংলার সংস্কৃতির মধ্যকার অদৃশ্য এক সেতুবন্ধন
হিসেবেই দেখছেন সংগীতপ্রেমীরা। পরিবারের সঙ্গে কয়েক দিন ঢাকায় কাটিয়ে খুব শীঘ্রই কলকাতায়
ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

