কাল্কি কোয়েচলিন
২০০৯ সালে অনুরাগ ক্যাশপের 'দেব ডি' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছিলেন কাল্কি কোয়েচলিন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'দেবদাস'-এর এই আধুনিক রূপায়ণে তিনি অভিনয় করেছিলেন 'চন্দা' (চন্দ্রমুখী) চরিত্রে। শুক্রবার সিনেমাটি আবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই উপলক্ষে এনডিটিভি-র সাথে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে কাল্কি তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু ও নানা সংগ্রামের কথা শেয়ার করেছেন।
'দেব ডি' সিনেমার চন্দা চরিত্রটি তথাকথিত
পর্দানশীন বা অসহায় কোনো প্রেমিকা ছিল না। স্কুল জীবনে এমএমএস স্ক্যান্ডালের শিকার
হওয়ার পর পরিস্থিতির চাপে সে একজন হাই-প্রোফাইল এসকর্ট বা যৌনকর্মী হয়ে ওঠে। কাল্কি
জানান, অডিশনের সময় অনেক নামী অভিনেত্রী এই চরিত্রটিকে 'নোংরা' বা 'পর্নোগ্রাফিক' বলে
প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। বিশেষ করে ফোনে সেক্স চ্যাট করার একটি দৃশ্য নিয়ে অনেকেরই আপত্তি
ছিল।
কাল্কি সেই দৃশ্যটি অত্যন্ত সহজভাবে ফুটিয়ে
তুলেছিলেন। তিনি বলেন, অনুরাগ ক্যাশপ চেয়েছিলেন দৃশ্যটি যেন খুব সাধারণ মনে হয়—চন্দার
জন্য এটা কেবলই একটা প্রাত্যহিক কাজ। আমি সোফায় বসে একটা বালিশ নিয়ে খেলতে খেলতে সংলাপগুলো
বলেছিলাম। আমার এই সাবলীলতা দেখেই অনুরাগ আমাকে চূড়ান্ত করেছিলেন।
'দেব ডি' সমাদৃত হলেও কাল্কিকে ব্যক্তিগত
আক্রমণ ও ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। তাঁর চেহারা নিয়ে বিদ্রূপ করে অনেকে তাঁকে
'রাশিয়ান মডেল' বা তাঁর দাঁত নিয়ে 'বাগস বানি' বলে উপহাস করত। এমনকি 'শাংহাই' সিনেমার
সময়ও তাঁকে চরম কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল। কাল্কির মতে, এই ট্রোলিং আসলে আক্রমণকারীর
নিজস্ব হীনম্মন্যতারই বহিঃপ্রকাশ।
সিনেমাটি হিট হওয়া সত্ত্বেও কাল্কির কাছে
কিন্তু রাতারাতি বড় কোনো অফার আসেনি। প্রায় দুই বছর তিনি সিনেমার বাইরে ছিলেন। সেই
সময় তিনি থিয়েটারে মন দেন এবং 'স্কেলিটন ওম্যান' নামে একটি নাটক লিখে পুরস্কারও জেতেন।
এরপর ২০১১ সালে জয়া আখতারের 'জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা' সিনেমার মাধ্যমে তিনি আবার
বড় পর্দায় ফেরেন। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর প্রথম নায়ক অভয় দেওলও সেই সিনেমায় তাঁর সহ-অভিনেতা
ছিলেন।
অভয় দেওলের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব এখনো অটুট।
কাল্কি জানান, গোয়ায় দেখা হলে তাঁরা আড্ডা দেন এবং অভয়ের কার্টুন আঁকার দক্ষতার প্রশংসাও
করেন তিনি। 'দেব ডি' পুনরায় মুক্তির খবরে কাল্কি বেশ উচ্ছ্বসিত। ২০০৯ সালের সেই সাহসী
চন্দা আবার বড় পর্দায় নতুন প্রজন্মের দর্শকদের সামনে আসছে—এটি তাঁর জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

