Logo

বিনোদন

কণ্ঠ ও ছবি ট্রেডমার্ক করছেন টেলর সুইফট

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৭

কণ্ঠ ও ছবি ট্রেডমার্ক করছেন টেলর সুইফট

টেলর সুইফট

বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কারের পাশাপাশি এর অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে তারকাদের কণ্ঠ নকল করে গান তৈরি বা ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়া এখন এক বড় বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এবার শক্ত অবস্থান নিয়েছেন বিশ্বখ্যাত সংগীত তারকা টেলর সুইফট। নিজের কণ্ঠস্বর এবং জনপ্রিয় একটি ছবিকে ট্রেডমার্ক’ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

সুইফটের প্রতিষ্ঠান টিএএস রাইটস ম্যানেজমেন্ট’ গত শুক্রবার তিনটি ট্রেডমার্ক আবেদন দাখিল করেছে। এর মধ্যে দুটি আবেদন করা হয়েছে তার কণ্ঠস্বরের জন্য। সুইফট যখন হে, ইটস টেলর সুইফট’ এবং হে, ইটস টেলর’ এই দুটি বাক্য বলবেন, সেই নির্দিষ্ট শব্দশৈলী ও কণ্ঠের ওপর তার একক স্বত্বাধিকার থাকবে। তৃতীয় আবেদনটি করা হয়েছে তার বর্তমান সময়ের আলোড়ন সৃষ্টিকারী ইরাস ট্যুর’-এর একটি বিশেষ ভঙ্গিমার ছবির জন্য। যেখানে সুইফটকে রঙিন পোশাক ও সিলভার বুট পরে একটি গোলাপি গিটার হাতে গান গাইতে দেখা যায়। সুইফট চান, এই বিশেষ মুহূর্তের কোনো নকল বা এআই-সৃষ্ট বিকৃত রূপ যেন বাণিজ্যিকভাবে কেউ ব্যবহার করতে না পারে।

টেলর সুইফটের এই পদক্ষেপটি অনেকটা হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহের মতোই। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ম্যাককনাহে তার জনপ্রিয় সংলাপ অল রাইট, অল রাইট, অল রাইট” এর জন্য ট্রেডমার্ক আবেদন করেছিলেন। ম্যাককনাহে তখন বলেছিলেন, আমি নিশ্চিত করতে চাই যে, যখনই আমার কণ্ঠ বা অবয়ব ব্যবহার করা হবে, তাতে যেন আমার অনুমতি থাকে। এআই-এর এই দুনিয়ায় আমাদের মালিকানা স্পষ্ট করা জরুরি।”

টেলর সুইফট দীর্ঘদিন ধরেই এআই অপব্যবহারের শিকার। ২০২৪ সালে তার অবয়ব ব্যবহার করে অশ্লীল ডিপফেক ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় তোলে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে সুইফটের এআই-সৃষ্ট ছবি ব্যবহার করে প্রচার চালিয়েছিলেন, যাতে মিথ্যাভাবে দেখানো হয়েছিল যে সুইফট তাকে সমর্থন করছেন। এসকল অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতেই সুইফট এই আইনি সুরক্ষার পথে হাঁটছেন।

বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ বিষয়ক আইনজীবী জশ গারবেন মনে করেন, কোনো তারকার কণ্ঠস্বরকে ট্রেডমার্ক করার বিষয়টি একদমই নতুন এবং এটি এখনো আদালতে পরীক্ষিত নয়। তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে গায়করা তাদের রেকর্ড করা গানের সুরক্ষার জন্য কপিরাইট আইনের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু এআই প্রযুক্তি এখন কোনো বিদ্যমান রেকর্ডিং কপি না করেই একজন শিল্পীর কণ্ঠ হুবহু নকল করতে পারে।

এই আইনি শূন্যস্থান পূরণ করতেই ট্রেডমার্ক সাহায্য করতে পারে।” গারবেন আরও যোগ করেন, যদি সুইফটের কণ্ঠের এই ট্রেডমার্ক সফল হয়, তবে তিনি শুধু সরাসরি নকল নয়, বরং বিভ্রান্তিকরভাবে মিল আছে’ এমন অনুকরণকেও আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন।

টেলর সুইফট তার ক্যারিয়ারে নিজের নাম, অ্যালবাম এবং গানের কলি নিয়ে এর আগে ৫০টিরও বেশি ট্রেডমার্ক করেছেন। ২০১৪ সালে ১৯৮৯’ অ্যালবাম প্রকাশের পর তিনি তার গানের পঙ্ক্তি দিস সিক বিট” এবং উই নেভার গো আউট অফ স্টাইল” এর জন্য ট্রেডমার্ক নিয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি ফিমেল রেজ: দ্য মিউজিক্যাল’ শব্দবন্ধটিও নিজের নামে নথিভুক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন