সব পরিস্থিতিতে ভালোটা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করি: প্রিয়াঙ্কা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৬
প্রিয়াঙ্কা সরকার
দেখতে দেখতে একটি মাস পেরিয়ে গেল। গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারির সমুদ্র সৈকতে ‘ভোলে বাবা পার কারেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চিরবিদায় নেন টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ২৯ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল— এই ৩০ দিনে টালিউড যেমন তার একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে হারিয়েছে, তেমনি রাহুলের পরিবারে তৈরি হয়েছে এক অপূরণীয় শূন্যতা। তবে এই শোকের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের মানসিক দৃঢ়তা ও ট্রোলারদের বিরুদ্ধে তার সাহসিক লড়াই।
২৯ মার্চ, ওড়িশার তালসারিতে চলছিল নতুন মেগা সিরিয়ালের শুটিং। সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে দৃশ্য ধারণের সময় ঘটে সেই দুর্ঘটনা। সহকর্মীদের চোখের সামনেই নিখোঁজ হয়ে যান রাহুল। পরে উদ্ধার করা হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মৃত্যু টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
-69f36677e2641.jpg)
ইতোমধ্যেই এই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত শুরু
হয়েছে এবং একাধিক স্থানে নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। স্বামীর অকালমৃত্যুতে
যখন দিশেহারা অবস্থা, ঠিক তখনই এক শ্রেণির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কুরুচিকর
আক্রমণের শিকার হন প্রিয়াঙ্কা সরকার।
স্বামীর শেষকৃত্যে কুর্তা-জিন্স পরা থেকে
শুরু করে শোকাতুর পরিবেশেও সহকর্মীদের পাশে হাসিমুখে ছবি তোলা— প্রতিটি বিষয় নিয়ে চলেছে
চুলচেরা বিশ্লেষণ ও কটু মন্তব্য। নেটিজেনদের একাংশ একে ‘অ্যাটেনশন সিকিং’ বা দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা
হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সম্প্রতি নিজের আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘কুহেলি’-র প্রচারণায় এসে এই বিষয়ে মুখ
খুলেছেন প্রিয়াঙ্কা। প্রিয়াঙ্কা বলেন, “আমি সব পরিস্থিতির মধ্যে ভালোটা খুঁজে
নেওয়ার চেষ্টা করি। যখনই এমন কোনো পরিস্থিতি এসেছে যেখানে হয়তো পাঁচজন নেতিবাচক কথা
বলেছেন, তার বিপরীতে ৫০ জন মানুষ আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমার কাছে ওই পাঁচজনের চেয়ে
ওই ৫০ জন মানুষের গুরুত্ব অনেক বেশি। তারাই আসল লড়াইটা করেন। অনেকেই সস্তা মনোযোগ পাওয়ার
জন্য অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। এদেরকে গুরুত্ব না দেওয়াই
সবচেয়ে বড় জবাব। আমি কেন নেতিবাচক কথাকে নিজের জীবনে প্রভাব ফেলতে দেব? যারা আমার জন্য
লড়াই করছে, তারাই আমার মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য।”
রাহুলের মৃত্যুর পর সবচেয়ে বেশি আবেগঘন
পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তাদের একমাত্র সন্তান সহজকে ঘিরে। বাবার শেষ বিদায়ের দিন সহজের
কান্নাভেজা মুখ দেখে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের চোখ ভিজে উঠেছিল। বাবার অতি আদরের সহজের
জীবন থেকে হুট করেই হারিয়ে গেছে সেই চওড়া কাঁধের আশ্রয়। প্রিয়াঙ্কা এখন একা হাতে সংসার
ও সন্তানের মানসিক অবস্থা সামলাচ্ছেন। এক মাস পর সহজ এখন কেমন আছে— এই প্রশ্নের উত্তরে
প্রিয়াঙ্কা জানান, তারা এখনো লড়াইয়ের মধ্যেই আছেন।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, “সহজের সঙ্গে বাবার মৃত্যু নিয়ে আমি এখনো বিস্তারিত কথা বলিনি। ও কীভাবে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছে, সেটা আমি জোর করে জানতে চাইনি। ওর যখন মনে হবে, ও নিজে থেকেই আমাকে বলবে। আমরা সবাই আলাদাভাবে এই শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”
-69f3668db5bc7.jpg)
রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার সম্পর্কের রসায়ন শুরু
হয়েছিল ‘চিরদিনই তুমি
যে আমার’ সিনেমার হাত ধরে। পর্দার প্রেম বাস্তবে রূপ নিতে দেরি হয়নি। পরবর্তীতে তাদের
বিয়ে এবং সন্তান সহজকে ঘিরে গড়ে ওঠে সাজানো সংসার। মাঝে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আলাদা
থাকা নিয়ে অনেক গুঞ্জন চললেও, ছেলের কথা ভেবে গত কয়েক বছর ধরে তারা আবারও একসঙ্গে থাকার
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সবকিছু যখন নতুন করে গুছিয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই প্রকৃতির নিষ্ঠুর
পরিহাসে সব তছনছ হয়ে গেল। রাহুলের প্রয়াণের এই এক মাসে টালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে শিল্পী
ও কলাকুশলীদের নিরাপত্তা নিয়ে জোরালো দাবি উঠেছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

