তানজিকা আমিন
ঢাকাই শোবিজের গ্ল্যামারাস অভিনেত্রী তানজিকা আমিন। পর্দার চিরচেনা হাসির অন্তরালে লুকিয়ে থাকা একরাশ আবেগ আর কৈশোরের রঙিন স্মৃতির কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেয়ার করেছেন তিনি। নিজের সম্পর্কের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে গিয়ে অভিনেত্রী জানান, তার জীবনে প্রেমের সংখ্যা হাতেগোনা হলেও প্রতিটি সম্পর্কের স্থায়িত্ব ছিল অনেক বেশি।
তানজিকা জানান, তার প্রথম প্রেমের শুরু হয়েছিল নিজের শহর রাজশাহীতে, যখন তিনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ‘অমিত’ নামের এক তরুণের প্রেমে পড়েছিলেন তিনি। সেই কৈশোরের ভালো লাগা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্কের ব্যাপ্তিকাল ছিল দীর্ঘ চার বছর। বর্তমানের স্মার্টফোন বা ভিডিও কলের যুগ তখন ছিল না। ল্যান্ডফোনের সেই যুগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলা আর হাতে লেখা দীর্ঘ চিঠিতেই চলত মনের আদান-প্রদান। পুরোনো দিনের সেই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তানজিকা বলেন, “বাসা থেকে তখন পড়ালেখার জন্য টিউটরের টাকা দেওয়া হতো। আমরা সেই টাকা বাঁচিয়ে একে অপরকে উপহার দিতাম। এমনকি রেস্টুরেন্টে গিয়ে মাত্র ২০ টাকার বাজেটে কোক আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেয়েই আমরা দিন পার করে দিতাম।”
-69f3677888970.jpg)
স্মৃতি হাতড়ে তিনি আরও জানান, ল্যান্ডফোনে
বেশি কথা বলার কারণে মাসের শেষে বড় অঙ্কের বিল আসত। আর সেজন্য মায়ের হাতে প্রচুর মারও
খেতে হয়েছে তাকে। স্কুল ও কোচিং ফাঁকি দিয়ে রাজশাহীর পদ্মার পাড়ে ঘুরতে যাওয়ার দিনগুলো
আজও তাকে দারুণভাবে আপ্লুত করে। আবেগঘন এই স্মৃতিচারণের মাঝে তানজিকা একটি মজার তথ্যও
শেয়ার করেছেন। তিনি হাসিমুখে জানান, তার সেই প্রথম প্রেমিক অমিত নাকি এখনও অবিবাহিত।
তবে প্রথম প্রেম পরিণয় না পেলেও সেই দিনগুলোর সরলতা আজও তানজিকার মনে অমলিন।
নিজের প্রেমের দর্শন নিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমার জীবনে প্রেমের সংখ্যা কম, কিন্তু স্থায়িত্ব বেশি। প্রতিটি প্রেমের ব্যাপ্তিকাল ছিল দীর্ঘ।” চটজলদি প্রেমে পড়া বা বারবার সম্পর্কে জড়ানো তানজিকার স্বভাবজাত নয়। বরং প্রতিটি সম্পর্কের গভীরতা বজায় রাখতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তানজিকা আমিনের এই অকপট স্বীকারোক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
-69f3678a7f36a.jpg)
ভক্তদের মতে, আধুনিক সময়ের যান্ত্রিক প্রেমের
যুগে তানজিকার এই নস্টালজিক গল্প পুরোনো দিনের নির্মল ভালোবাসার এক সুন্দর প্রতিচ্ছবি।
বর্তমানে তানজিকা তার ক্যারিয়ারের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এবং নতুন কিছু চমকপ্রদ
প্রজেক্টে তাকে শীঘ্রই দেখা যাবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

