অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘শ্যাটো মিরাভাল’ ওয়াইনারি সংক্রান্ত আইনি যুদ্ধে নতুন মোড়। হলিউডের সাবেক দম্পতি ব্র্যাড পিট ও অ্যাঞ্জেলিনা জোলির মধ্যকার তিক্ততা এবার আদালতের কাঠগড়ায় আরও স্পষ্ট হলো। লস অ্যাঞ্জেলেস সুপিরিয়র কোর্ট এক যুগান্তকারী রায়ে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির পক্ষে রায় দিয়েছেন।
বিচারক জানিয়েছেন, শ্যাটো মিরাভালের মালিকানা
বিক্রির বিষয়ে জোলির ব্যক্তিগত ইমেল বা নথি দেখতে চেয়ে যে আবেদন ব্র্যাড পিট করেছিলেন,
তা আইনত গ্রাহ্য নয়।
২০২২ সালে ব্র্যাড পিট জোলির বিরুদ্ধে
একটি মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, জোলি তার সম্মতি ছাড়াই শ্যাটো মিরাভালের নিজের অংশটি
লুক্সেমবার্গ-ভিত্তিক স্টোলি গ্রুপের কাছে ৬৭ মিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছেন। পিটের দাবি
ছিল, তাদের মধ্যে একটি অলিখিত চুক্তি ছিল যে একে অপরের অনুমতি ছাড়া কেউ মালিকানা হস্তান্তর
করবেন না।
জোলি এই চুক্তির কথা অস্বীকার করেন এবং
পাল্টা দাবি করেন যে, পিট তার বিরুদ্ধে একটি 'প্রতিহিংসামূলক যুদ্ধ' শুরু করেছেন। ব্র্যাড
পিট প্রাথমিকভাবে জোলির বিক্রয় দলের ১২৬টি গোপন নথি দাবি করেছিলেন, যা পরে কমিয়ে ২২টিতে
নামিয়ে আনা হয়। পিটের আইনজীবীদের দাবি ছিল, এই বার্তাগুলো পেশাদার গোপনীয়তার আওতার
বাইরে। তবে আদালত সেই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন।
জোলির আইনজীবী পল মারফি এক বিবৃতিতে বলেছেন,
“এটি জোলির জন্য
একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জয়। মিস্টার পিট জোলির ব্যক্তিগত ও গোপনীয় নথিতে প্রবেশাধিকার
চেয়ে সীমা লঙ্ঘন করেছিলেন। আদালত এই অন্যায় আবদারে দাড়ি টেনে দিয়েছেন।” আদালত জানিয়েছে,
পিট তার দাবি প্রমাণের জন্য যথেষ্ট জোরালো যুক্তি দিতে পারেননি, যদিও পিট এই রায়ের
বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
ফ্রান্সের কোরেন্স অঞ্চলে অবস্থিত ১৭শ
শতাব্দীর এই নয়নাভিরাম প্রাসাদটি জোলি ও পিট ২০১১ সালে ৬৭ মিলিয়ন ডলারে কেনেন। ১,২০০
হেক্টর আয়তনের এই বিশাল এস্টেটে রয়েছে পাইন বন, জলপাই বাগান এবং একটি বিশাল আঙুর বাগান।
এখান থেকেই বিখ্যাত ‘মিরাভাল রোজে’ ওয়াইন উৎপাদিত হয়। ২০১৪ সালে এই প্রাসাদেই জোলি ও পিট
তাদের বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছিলেন। কিন্তু ২০১৬ সালে জোলি বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন
করার পর থেকেই মিরাভাল তাদের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
মিরাভাল কেবল একটি বিলাসবহুল বাসস্থানই
নয়, এটি বিশ্ব সংগীতের এক তীর্থস্থান। পিয়ানোবাদক জ্যাক লুসিয়ার এখানে একটি স্টুডিও
তৈরি করেছিলেন, যেখানে পিঙ্ক ফ্লয়েড তাদের কালজয়ী অ্যালবাম ‘দ্য ওয়াল’ -এর একাংশ রেকর্ড করেছিল। ২০২২
সালে ব্র্যাড পিট এবং ফরাসি প্রযোজক ড্যামিয়েন কুইন্টার্ড স্টুডিওটি আধুনিকায়ন করে
এর নাম দেন ‘মিরাভাল স্টুডিওস’।
বর্তমানে এটি এসি/ডিসি, ট্র্যাভিস স্কট এবং কেন্ড্রিক ল্যামারের মতো তারকাদের পছন্দের
তালিকায় রয়েছে।
বিলাসবহুল এই সম্পদের দখল নিয়ে হলিউডের
এই দুই মহাতারকার লড়াই যে এখনই থামছে না, আদালতের এই রায় তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আপাতত
জোলি এক ধাপ এগিয়ে থাকলেও, ব্র্যাড পিট যে সহজে জমি ছাড়বেন না, তা তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের
মন্তব্যে স্পষ্ট।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

