Logo

বিনোদন

রাজনীতি ছাড়ছেন নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ২১:০০

রাজনীতি ছাড়ছেন নির্মাতা রাজ চক্রবর্তী

রাজ চক্রবর্তী

পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে পাকাপাকিভাবে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিলেন ব্যারাকপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

তবে রাজের এই প্রস্থান নিয়ে টলিউড এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে ব্যারাকপুর আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাজ চক্রবর্তী।

কিন্তু ফল ঘোষণার দিন দেখা যায়, বিজেপির প্রার্থী কৌস্তভ বাগচীর কাছে ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। গত ৪ মে ভোট গণনা চলাকালীন পরাজয় নিশ্চিত জেনে কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসার সময় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সম্মুখীন হন এই নির্মাতা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাজ যখন গণনা কেন্দ্র ত্যাগ করছিলেন, তখন উপস্থিত একদল জনতা তাকে লক্ষ্য করে চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। এমনকি উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে তার গায়ে কাদা ছুড়ে মারার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটে। কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে বিমর্ষ মুখে রাজ সেখান থেকে চলে যান। সেই ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিন দিন পুরোপুরি নীরব ছিলেন রাজ।

অবশেষে বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার কথা জানান। রাজ লেখেন, জীবনে যখনই কোনো দায়িত্ব পেয়েছি, নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেছি। একজন পরিচালক হিসেবে সিনেমার মাধ্যমে মানুষকে আনন্দ দিয়েছি; সেখানে কখনো জিতেছি, কখনো হেরেছি।

২০২১ সালে আমার রাজনৈতিক জীবনের পদার্পণ। মানুষ সুযোগ দিয়েছিলেন, পাঁচ বছর বিধায়ক হিসেবে কাজ করেছি। ২০২৬-এ সেই অধ্যায় শেষ হলো, সেই সঙ্গে শেষ হলো আমার রাজনৈতিক পথচলা।”

রাজ চক্রবর্তীর এই হঠাৎ প্রস্থানকে ভালোভাবে নেননি টলিউডের বামপন্থী ঘরানার পরিচালক ও নাট্যব্যক্তিত্ব সৌরভ পালোধি। নাম না করে রাজকে উদ্দেশ্য করে ফেসবুকে তিনি লেখেন, হেরে গেলে কি রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে যায়? এদেরকে কি মৌলিক রাজনৈতিক শিক্ষার কোনো বই উপহার দেওয়া যায় না? 

রাজনীতি কেবল ক্ষমতায় থাকা বা লালবাতি গাড়ির ভোগবিলাস নয়, বরং রাজপথে থেকে মানুষের অধিকারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার নাম। পরাজয়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজের এমন সরে যাওয়াকে সুবিধাবাদী রাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন নেটিজেনদের একাংশ। তবে সৌরভের এই আক্রমণের বিপরীতে রাজ চক্রবর্তী এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি।

কঠিন এই সময়ে রাজের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তার স্ত্রী, অভিনেত্রী শুভশ্রী গাঙ্গুলি। গত কয়েক দিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্টের মাধ্যমে তিনি রাজকে সাহস জোগানোর চেষ্টা করছেন। শুভশ্রীর একটি পোস্টে ফুটে উঠেছে, জয়-পরাজয় জীবনের অংশ এবং তিনি সব পরিস্থিতিতেই স্বামীর পাশে অবিচল আছেন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ চক্রবর্তী ব্যারাকপুর থেকে জিতে তৃণমূলের অন্যতম হেভিওয়েট’ তারকা বিধায়ক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে রাজ্যে ১৫ বছর পর তৃণমূলের ক্ষমতার পরিবর্তন এবং বিজেপির উত্থানের ঝড়ে রাজ নিজের আসনটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চোর’ স্লোগান এবং কাদা ছোড়ার ঘটনাটি রাজের মতো একজন সংবেদনশীল শিল্পীর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। তাই ক্ষমতার বাইরে থেকে রাজনীতি করার মানসিক প্রস্তুতি তার ছিল না বললেই চলে। এখন দেখার বিষয়, রাজনীতির ময়দান ছেড়ে রাজ পুনরায় রুপালি পর্দায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারেন কি না।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন