Logo

বিনোদন

জেবা জান্নাতের অভিযোগে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের সেন্সর বাতিল

Icon

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ২০:৪০

জেবা জান্নাতের অভিযোগে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজের সেন্সর বাতিল

জেবা জান্নাত

নাটক বলে কাজ করিয়ে সিনেমা হিসেবে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় পড়েছে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামক একটি প্রজেক্ট। অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের জোরালো আপত্তি ও লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে সিনেমাটির সেন্সর সার্টিফিকেট। এর ফলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) সিদ্ধান্তে আপাতত স্থগিত হয়ে গেল সিনেমাটির বড় পর্দায় মুক্তির যাবতীয় প্রক্রিয়া।

চলতি বছরের শুরুর দিকে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামক প্রজেক্টটি প্রাথমিকভাবে কোনো ধরনের বড় আপত্তি ছাড়াই সেন্সর ছাড়পত্র পেয়েছিল। কিন্তু ছাড়পত্র পাওয়ার পরপরই অভিনেত্রী জেবা জান্নাত কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, এই প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রাখা হয়েছে এবং চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে।

বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি বুধবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুরুতে প্রজেক্টটির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী সেন্সর দেওয়া হয়েছিল। তবে জেবা জান্নাতের অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে দেখা যায়, অভিনেত্রীর দাবির সপক্ষে যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। সিনেমা হিসেবে মুক্তির জন্য যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিপত্র ও সম্মতির প্রয়োজন ছিল, এই প্রজেক্টের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি। ফলে প্রশাসনিকভাবে এর সেন্সর সনদ বাতিল করা হয়েছে।

অভিনেত্রী জেবা জান্নাতের দাবি, নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীর যখন তাকে এই প্রজেক্টের জন্য চুক্তিবদ্ধ করেন, তখন জানানো হয়েছিল এটি একটি একক নাটক অথবা টেলিফিল্মের প্রজেক্ট। সেই হিসেবেই তিনি শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু শুটিং চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়ে তিনি জানতে পারেন, কোনো ধরনের আলোচনা বা নতুন চুক্তি ছাড়াই এটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে মুক্তি দেওয়ার তোড়জোড় চলছে।

জেবা জান্নাত বলেন, একজন অভিনয়শিল্পীকে কোনো প্রজেক্টে নেওয়ার সময় তার মাধ্যম (মিডিয়াম) স্পষ্ট করা জরুরি। নাটক এবং সিনেমার ব্যাকরণ ও ক্যানভাস আলাদা। আমাকে নাটকের কথা বলে কাজ করিয়ে নিয়ে এখন সিনেমা হিসেবে চালানো হচ্ছে, যা পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন। এ কারণেই আমি লিখিতভাবে বিএফডিসিকে জানিয়েছি।

‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ প্রজেক্টের এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে যখন দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক অডিও বার্তার মাধ্যমে নিজের বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মৌসুমী জানান, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী একটি মেয়ের জীবন সংগ্রামের গল্প নিয়ে ছোট পরিসরের একটি নাটক নির্মাণের।

নির্মাতা হাসান জাহাঙ্গীরের অনুরোধে তিনি পরবর্তীতে এটিকে টেলিফিল্ম হিসেবে প্রচারের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় হয়েছিলেন। কিন্তু কোনোভাবেই বড় পর্দার সিনেমা হিসেবে এটি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল না। আমি অবাক হয়ে দেখলাম প্রজেক্টটি সিনেমা হিসেবে সেন্সর পেয়েছে এবং বড় পর্দায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কাজের ধরন বা পরিধি পরিবর্তনের আগে শিল্পীদের সাথে যে ন্যূনতম সৌজন্যতা ও আলোচনার প্রয়োজন ছিল, এখানে তার কিছুই করা হয়নি। মাঝপথে প্রকল্পের ধরন এভাবে পরিবর্তন করা মোটেই কাম্য নয়।

সিনেমাটির নির্মাতা এবং প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা হাসান জাহাঙ্গীর অবশ্য শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন এটি একটি মানসম্পন্ন কাজ এবং দর্শকদের ভালো লাগবে। তবে সেন্সর বাতিল হওয়ার পর তার পক্ষ থেকে নতুন কোনো জোরালো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী, হাসান জাহাঙ্গীর এবং জেবা জান্নাত। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লোকেশনে দৃশ্যধারণ করা এই প্রজেক্টটি নিয়ে বড় স্বপ্ন ছিল নির্মাতার। কিন্তু প্রধান দুই অভিনেত্রীর এমন প্রকাশ্য বিরোধ এবং বিএফডিসির কঠোর অবস্থানে সিনেমাটির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি অনিশ্চিত।

 

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন