বলিউড অভিনেত্রী কৃতি স্যানন এই মুহূর্তে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁর আগামী ধামাকা সিনেমা 'ককটেল ২' -এর মুক্তি নিয়ে। এই সিনেমায় 'অ্যালি' চরিত্রে পর্দায় হাজির হতে যাচ্ছেন তিনি। সম্প্রতি সিনেমাটিতে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বিকিনি দৃশ্যের শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা এবং এর পেছনের কঠোর শারীরিক কসরতের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন কৃতি। নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে কৃতি তাঁর ফিটনেস কোচ ও ভারতীয় ফুটবলার করণ সাহনির একটি রিল ভিডিও শেয়ার করেন।
ভিডিওতে কৃতিকে একটি ট্রেডমিলে খাড়া বা
স্টিপ ইনক্লাইনড ওয়াকে (ঝুঁকিপূর্ণ চড়াই হাঁটা) ঘাম ঝরাতে দেখা যায়। যেখানে কৃতি হাসতে
হাসতে তাঁর ট্রেইনারকে বলছিলেন, “করণ, আমি জাস্ট চাই তুমি এটা দেখ। ইনক্লাইনড ওয়াক!”
কৃতির ট্রেইনার করণ সাহনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে
একটি দীর্ঘ নোট লিখে জানিয়েছেন, 'ককটেল ২' সিনেমার জন্য কৃতির ফিটনেস প্ল্যানটি তাঁর
অতীতের যেকোনো কাজের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ও চ্যালেঞ্জিং ছিল। ছবির পরিচালক হোমি আদাজানিয়া
-এর একটি স্পষ্ট এবং আপসহীন ব্রিফ ছিল— কৃতিকে পর্দায় সুপার লীন এবং সুপার টোনড দেখাতে
হবে, যাতে ক্যামেরায় তাঁর অ্যাবস স্পষ্ট বোঝা যায়। কিন্তু কোনোভাবেই তাঁকে ‘সাইজ জিরো’ করা যাবে না। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটি
ছিল— অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে গিয়ে যেন কৃতির চেহারার স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য বা গ্লো হারিয়ে
না যায়, মুখ যেন শুকিয়ে বসে না যায়। ফিটনেসের ভাষায় একে বলা হয় একটি সূক্ষ্ম সুতার
ওপর দিয়ে হাঁটা।
কৃতির ট্রেইনার জানান, পেশী বা মাসল লস
না করে শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্যাট বা চর্বি ঝরানোর জন্য তাঁরা 'ইনক্লাইনড ওয়াক' (ট্রেডমিলে
ঢালু চড়াইয়ের মতো করে হাঁটা)-কে তাঁদের ফিটনেস রুটিনের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
পেশী সুরক্ষিত রেখে ধীর ও টেকসই প্রক্রিয়ায় চর্বি পোড়াতে সাহায্য করেছে এই ইনক্লাইনড
ওয়াক। এর পাশাপাশি শরীরের সঠিক গঠন ও ডেফিনিশন ধরে রাখার জন্য সপ্তাহে ছয় দিন ভারী
স্ট্রেংথ ট্রেনিং করেছেন কৃতি। অতিরিক্ত ক্লান্ত না হয়েও শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক
প্রক্রিয়া সচল রাখতে জোন ২ কার্ডিও ব্যবহার করা হয়েছিল। কৃতিকে একটি উচ্চ প্রোটিনযুক্ত
ডায়েট চার্ট দেওয়া হয়েছিল। ক্যালরি ডেফিসিট (প্রয়োজনের চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ) বজায়
রেখেও এমন পুষ্টি নিশ্চিত করা হয়েছিল যেন চেহারার গ্ল্যামার নষ্ট না হয়।
করণ সাহনি কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন,
“এটি কেবল একটি
দৃশ্যের জন্য সুন্দর দেখানোর লড়াই ছিল না। এটি ছিল পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজের
চরিত্রের প্রতি সৎ থাকার লড়াই। কৃতি প্রতিদিন অসম্ভব ডেডিকেশন, ধারাবাহিকতা ও শৃঙ্খলার
সাথে এই কাজটি করে দেখিয়েছেন। কৃতি স্যানন তাঁর কঠোর পরিশ্রমে চরিত্রটিকে জীবন্ত করে
তুলেছেন, আমি তাঁর জন্য অত্যন্ত গর্বিত।” কৃতির এই অসাধারণ রূপান্তর ও প্রথম বিকিনি
অবতার বড় পর্দায় দেখার জন্য এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন তাঁর কোটি ভক্ত।

