ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ
নিলামে উঠছে কারাবন্দী অভিনেতা রাজপালের বাড়ি
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২০:০১
বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদবের আইনি ও আর্থিক সংকট আরও গভীর রূপ নিয়েছে। ৯ কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় সাজা পেয়ে বর্তমানে তিহার কারাগারে বন্দী রয়েছেন এই অভিনেতা। এর মধ্যেই কোটি কোটি রুপির ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় তার স্থাবর সম্পত্তি ও পৈতৃক বাড়ি নিলামে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অভিনেতার মধ্যপ্রদেশ ও উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন সম্পত্তি নিলামে তোলার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার তথ্য
অনুযায়ী, রাজপাল যাদব তার স্ত্রী রাধা যাদব এবং মা গোদাবরী দেবীর নামে সেন্ট্রাল ব্যাংক
অব ইন্ডিয়া থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, যা সুদে-আসলে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ কোটি
৬১ লাখ রুপিতে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালিত ‘আতা পাতা লাপাতা’ ছবি নির্মাণের জন্য এবং
পরবর্তীতে শাহজাহানপুরে বাবা নওরঙ্গ যাদবের সম্পত্তি বন্ধক রেখে তিনি এই ঋণ গ্রহণ করেছিলেন।
কিন্তু নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার পৈতৃক সম্পত্তিকে
'খেলাপি ঋণ' হিসেবে চিহ্নিত করে। ঋণের বকেয়া অর্থ আদায়ে ইতোমধ্যে উত্তর প্রদেশের
শাহজাহানপুরের কচেহরি রোডে অবস্থিত তার পৈতৃক বাসভবন এবং অন্য একটি প্লটের সামনে নিলামের
নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টে সেন্ট্রাল ব্যাংক
অব ইন্ডিয়ার বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স শাখার একটি দল শাহজাহানপুরের ওই সম্পত্তি সিলগালা
করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। সে সময় রাজপাল যাদব ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা
করে সমঝোতায় পৌঁছালে বিষয়টি সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে পুনরায় চুক্তি
অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ না করায় মুম্বাই ডেট রিকভারি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে নতুন করে
নিলামের আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো।
জানা গেছে, আনুমানিক ৩ কোটি ১০ লাখ রুপি
মূল্যের উক্ত পৈতৃক সম্পত্তি ছাড়াও রাজপালের মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট এবং পৈত্রিক গ্রাম
কুন্ডরার জমিও এই নিলামের প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে। তবে সম্পত্তি নিলামের
বিষয়ে কিছুটা ভিন্ন দাবি করেছেন অভিনেতার বড় ভাই শ্রীপাল যাদব। তিনি জানান, বিষয়টি
নিয়ে এখনও ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং দ্রুতই সমঝোতা হবে বলে তারা আশাবাদী। যদিও
ব্যাংকের টাঙানো নোটিশে আগামী ৩৪ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের চেক বাউন্স সংক্রান্ত
সাতটি পৃথক মামলায় দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালাচ্ছেন এই অভিনেতা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে
একই মামলায় ১২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হলেও, পাওনাদারের অর্থ ফেরত না
দেওয়ায় গত ১০ জুলাই দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে তিরস্কার করে তিন মাসের কারাদণ্ড দেন।
সেই রায়ের পর থেকে তিহার কারাগারে বন্দিত্ব কাটাচ্ছেন বলিউডের এই পরিচিত মুখ। কারাবাসের
মধ্যেই কোটি টাকার সম্পত্তি হারানোর নতুন নোটিশে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে রাজপালের
পরিবার।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

