দীর্ঘ আট বছরের বিরতি কাটিয়ে অবশেষে বলিউডের রুপালী পর্দায় কামব্যাক করছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত 'বাটোয়ারা ১৯৪৭' সিনেমার মাধ্যমে পর্দায় ফিরছেন তিনি। ছবিটি আগামী ১৪ আগস্ট প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
সম্প্রতি মুম্বাইতে সিনেমার ট্রেলার উন্মোচন
অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিন অভিনয় থেকে দূরে থাকা, প্রথমবার রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনা এবং
সানি দেওলের সাথে পুনরায় কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মনখোলা আলোচনা করেন এই ঢালিউড ও বলিউড
তারকা।
আমির খানের একটি ফোন কল প্রীতি জিনতার
ক্যারিয়ারের এই মোড় ঘুরিয়ে দেয়। জিন গুডএনাফকে বিয়ের পর লস অ্যাঞ্জেলেসে স্থায়ী
হওয়া এবং সন্তানদের লালন-পালনে ব্যস্ত থাকা প্রীতি মূলত অভিনয়ে ফেরার তাগিদ অনুভব
করছিলেন না। তবে আমির খান ও রাজকুমার সন্তোষী যখন স্ক্রিপ্ট নিয়ে তার কাছে যান, তিনি
গল্প শুনেই তৎক্ষণাৎ হ্যাঁ বলে দেন। মুম্বাই পৌঁছে কোনো বিশ্রাম ছাড়াই সরাসরি লুক
টেস্ট ও চিত্রনাট্য পাঠের পর প্রথম দিনই অত্যন্ত আবেগঘন ও কঠিন দৃশ্যের শুটিং করতে
হয় তাকে। এই পরিস্থিতিতে পুরোনো সহশিল্পী সানি দেওল তাকে মানসিক সাহস জুগিয়েছেন বলে
জানান প্রীতি।
সিনেমার অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে প্রীতি
জিনতা জানান, দেশভাগের সময় নারীদের যে কোনো স্বাধীনতা ছিল না, সেই কঠিন সত্য উপলব্ধি
করেছেন কাজ করতে গিয়ে। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিচালক আমাকে
প্রতিটা দৃশ্যেই রান্নাবান্না করা, ঘর পরিষ্কার বা সেলাই করার নির্দেশনা দিতেন। কারণ
১৯৪৭ সালে নারীদের পরিবার আর সন্তান ছাড়া অন্য কোনো ক্যারিয়ার বা পছন্দের স্বাধীনতা
ছিল না। এই সিনেমার পর আধুনিক যুগের নারীদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ও অধিকারের
প্রতি তার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়।
দীর্ঘ আট বছর চলচ্চিত্রে অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে
প্রীতি স্পষ্ট জানান, ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার গঠনই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার,
তাই কাজ মিস করেননি। বর্তমানে তার কাছে সন্তানদের সময় দেওয়াই প্রধান বিষয়।
আগামীতে কুনাল খেমুর 'ভাইব' সিনেমায় দেখা
গেলেও দীর্ঘ মেয়াদের ওয়েব সিরিজে অভিনয় না করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দুই সন্তান
জিয়া ও জয়কে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় সংস্কৃতি ও পারিবারিক মূল্যবোধেই বড় করছেন বলেও
জানান এই অভিনেত্রী। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আবহে মুক্তি পেতে যাওয়া 'বাটোয়ারা
১৯৪৭' ঘিরে এখন দারুণ উৎসুক হিন্দি সিনেমার দর্শকরা।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

