তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সোচ্চার থাকা চিত্রনায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, ৩৩ বছর আগে নিজের জীবনের গভীর শোক ও বেদনাকে মানুষের জীবন রক্ষার শক্তিতে রূপ দিয়েছিলাম। দীর্ঘ পথচলায় এটি এখন আর আমার বা কোনো সংগঠনের একক আন্দোলন নয়, এটি পুরো বাংলাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আমার স্বপ্ন আপনাদের কাছে দিয়ে গেলাম; আমি না থাকলেও আপনারা নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা
একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নিসচার ১১তম মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি
দেশবাসীর উদ্দেশে এই আবেগঘন আহ্বান জানান। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর মর্মান্তিক এক সড়ক
দুর্ঘটনায় স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনকে হারানোর পর থেকে রাজপথে আন্দোলন শুরু করেন ইলিয়াস
কাঞ্চন, যার স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার ২২ অক্টোবরকে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস হিসেবে
ঘোষণা করে।
সমাবেশ থেকে তিনি আরও বলেন,
আমরা কেউ কারও প্রতিপক্ষ নই, মানুষের জীবনের সুরক্ষায় আমরা সবাই সহযোদ্ধা। সরকার,
প্রশাসন, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমসহ দেশের প্রতিটি সচেতন
নাগরিককে এই আন্দোলনের অংশ হতে হবে।
মহাসমাবেশে বক্তৃতাকালে নিজের
সাম্প্রতিক গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার কথা তুলে ধরে সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন
এই বীরযোদ্ধা। মারাত্মক ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘ ১৫ মাসেরও বেশি সময় চিকিৎসা
শেষে গত সোমবারই যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেছেন তিনি। লন্ডনের হাসপাতালে তাঁর মস্তিষ্কে
জটিল অস্ত্রোপচার করে টিউমারের সিংহভাগ অপসারণ করা হলেও ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকির কারণে
চিকিৎসকেরা পুরোপুরি তা সরাতে পারেননি।
এরপর দীর্ঘ তিন মাস টানা কেমোথেরাপির
পাশাপাশি মোট তিন ধাপে প্রায় শখানেক কেমোথেরাপি ও ওরাল থেরাপি গ্রহণ করতে হয়েছে তাকে।
শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও সুস্থ হয়ে আবারও সামাজিক এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যোগ
দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে
উপস্থিত সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নিরাপদ সড়কের আন্দোলন কেবল কোনো
ব্যক্তির দাবি নয়, এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের অংশ। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমন
একটি রাষ্ট্র ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে নাগরিক অধিকারের জন্য
কাউকে আন্দোলন করতে হবে না। মহাসমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী
হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যারা
নিরাপদ সড়ক তৈরিতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

