দ্য ওডিসি থেকে কমেডি ড্রামা
ক্যারিন জেমস ও নিকোলাসের চোখে সেরা ১২ সিনেমা
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৯
চলচ্চিত্রের জন্য ২০২৬ সালটি ইতোমধ্যেই উপহার দিয়েছে বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন, রোমাঞ্চকর এবং বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি। ক্রিস্টোফার নোলানের বহুপ্রতীক্ষিত মহাকাব্যিক থ্রিলার থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক কমেডি কিংবা হাড়হিম করা হরর-থ্রিলার—সবই দেখা গেছে রূপালী পর্দায়। বছরজুড়ে মুক্তি পাওয়া বিশ্বমানের অসংখ্য চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে সেরা ১২টি চলচ্চিত্র বেছে নিয়েছেন প্রখ্যাত বিবিসি চলচ্চিত্র সমালোচক ক্যারিন জেমস এবং নিকোলাস বারবার। আন্তর্জাতিক বিনোদন অঙ্গনের এই সেরা ১২ সিনেমার তালিকা ও বিশ্লেষণ নিচে উপস্থাপন করা হলো।
দ্য
ইনভাইট : হলিউডে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী মৌলিক কমেডি সিনেমার খরা কাটিয়েছে ওলিভিয়া
ওয়াইল্ড পরিচালিত ‘দ্য ইনভাইট’। স্প্যানিশ একটি সফল মঞ্চনাটক ও সিনেমার গল্প অবলম্বনে নির্মিত
এই ছায়াছবিটির পুরো কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একটি অ্যাপার্টমেন্টের এক রাতের নৈশভোজকে
কেন্দ্র করে। একটি অখুশি বিবাহিত দম্পতির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সেথ রোগেন ও ওলিভিয়া
ওয়াইল্ড এবং তাঁদের আমন্ত্রণে আসা হাসিখুশি প্রতিবেশী দম্পতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন
পেরেনেলোপে ক্রুজ ও এডওয়ার্ড নর্টন। চারজন চরিত্রকে নিয়ে উইল ম্যাককরম্যাক ও রশিদা
জোন্সের বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ চিত্রনাট্য এবং ওলিভিয়া ওয়াইল্ডের পরিচালনা সিনেমাটিকে
বছরের অন্যতম সেরা ডার্ক কমেডিতে পরিণত করেছে।
দ্য
ওডিসি : গ্রীক কবি হোমারের বহু প্রাচীন মহাকাব্য 'ওডিসি' অবলম্বনে নির্মিত ক্রিস্টোফার
নোলানের এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগেই তৈরি করেছিল বিশাল হাইপ। আইম্যাক্স ক্যামেরায়
ধারণকৃত এই ভিজ্যুয়াল মাস্টারপিসে ওডিসিউস চরিত্রে ম্যাট ডেমন অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার
পরিচয় দিয়েছেন। ট্রয় যুদ্ধ শেষে ইথাকায় নিজের বাড়িতে ফেরার এই দীর্ঘ যাত্রায় তাঁর
সাথে যুক্ত হয়েছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, টম হল্যান্ড এবং জেন্ডায়ার
মতো প্রথম সারির তারকাদের নাম। নোলান তাঁর চিরচেনা নন-লিনিয়ার গল্প বলার শৈলীতে ট্রয়
যুদ্ধের উত্তাল দৃশ্য থেকে শুরু করে জাদুকরী চরিত্র কির্কের রহস্যময় জগতকে পর্দায়
মহাকাব্যিক রূপ দিয়েছেন।
নিরভানা
দ্য ব্যান্ড দ্য শো দ্য মুভি : কানাডীয় নির্মাতা ও অভিনেতা ম্যাট জনসন
এবং জয় ম্যাককারলের এই স্বাধীন সিনেমাটিকে বলা হচ্ছে বছরের সবচেয়ে উদ্ভাবনী ও হাস্যরসাত্মক
টাইম-ট্রাভেল অ্যাডভেঞ্চার। ২০০৮ সালে ধারণকৃত ফুটেজ এবং টরন্টোর রাস্তায় সম্প্রতি
তোলা নতুন ফুটেজের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। দুই সংগীতানুরাগী তরুণের অনিচ্ছাকৃতভাবে
অতীতে ফিরে যাওয়ার এই গল্পটি যেমন সিচুয়েশনাল কমেডিতে ভরপুর, তেমনি টরন্টো শহর এবং
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতি এক সুন্দর ভালোবাসার স্মারক।
দ্য
শিপ ডিটেকটিভস : লাইভ-অ্যাকশন এবং সিজিআই অ্যানিমেশনের এক অপূর্ব মিশ্রণ
‘দ্য শিপ ডিটেকটিভস’।
প্রিয় রাখাল জর্জ (হিউ জ্যাকম্যান) খুন হওয়ার পর, তার কাছ থেকে রহস্য উপন্যাস শুনে
বড় হওয়া ভেড়ার পালই সিদ্ধান্ত নেয় এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করার। শিশু ও
প্রাপ্তবয়স্ক—সব বয়সের দর্শকের জন্যই এটি আনন্দদায়ক। ভেড়ার প্রধান চরিত্র ‘লিলি’র কণ্ঠে জুলিয়া লুইস-ড্রাইফাসের
দারুণ কণ্ঠদান সিনেমাটিকে আবেগঘন ও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। এছাড়া অন্যান্য চরিত্রে রয়েছেন
নিকোলাস ব্রাউন ও এমা থম্পসন।
২৮
ইয়ার্স লেটার: দ্য বোন টেম্পল : ২০০২ সালের বিখ্যাত '২৮ ডেজ লেটার'-এর
সিক্যুয়াল হিসেবে নিয়াকোস্তা পরিচালিত এবং অ্যালেক্স গারল্যান্ড লিখিত এই হরর সিনেমাটি
জম্বি ঘরানায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ ফোক-হরর, একজন উন্মাদ বিজ্ঞানী
(র্যালফ ফিয়েন্স) ও একজন নরখাদকের অপ্রত্যাশিত রসায়ন এবং জনপ্রিয় ড্রামাটিক মিউজিকের
ব্যবহার সিনেমাটিকে অসাধারণ করে তুলেছে। বিশেষ করে জ্যাক ও'কনেল অভিনীত খলনায়ক চরিত্রটি
দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ভয় ও কৌতুহল তৈরি করে।
মাই
ফাদার্স শ্যাডো : ১৯৯৩ সালের নাইজেরিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত পরিচালক
আকিনোলা ডেভিসের এই চলচ্চিত্রটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবমুখী। লাগোস শহরে নিজের
দুই ছোট ছেলেকে নিয়ে বকেয়া টাকা আদায় করতে যাওয়া এক কর্মজীবী বাবার (সোপ ডিরিসু)
গল্পের মধ্য দিয়ে দেশটির তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচার ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ফুটে উঠেছে।
শিশু মানসিকতার নিখুঁত উপস্থাপনা এবং অসাধারণ নির্মাণের জন্য সিনেমাটি ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ
একাডেমি পুরস্কার জয় করেছে।
হপার্স
:
পিক্সার অ্যানিমেশনের নতুন ধামাকা ‘হপার্স’ একটি পরিবেশবাদী সায়েন্স-ফিকশন
কমেডি। মাবেল নামের এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ স্কুলছাত্রী একটি রোবোটিক বিভারের বা উটপাখির শরীরে
নিজের মস্তিষ্ক স্থানান্তরিত করে প্রাণীদের ভাষা বুঝতে শুরু করে। পরবর্তীতে দুর্নীতির
বিরুদ্ধে প্রাণীদের এই ঐক্যবদ্ধ লড়াই শিশুদের বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি একটি স্পষ্ট পরিবেশগত
বার্তাও পৌঁছে দেয়। ড্যানিয়েল চং পরিচালিত এই অ্যানিমেশনে প্রধান কণ্ঠে রয়েছেন পাইপার
কার্ডা ও জন হ্যাম।
উথারিং
হাইটস : এমিলি ব্রন্টের ১৮৪৭ সালের বিখ্যাত উপন্যাস অবলম্বনে পরিচালক এমারেল্ড
ফেনেল উপহার দিয়েছেন এক সাহসী ও আধুনিক রূপান্তর। ক্যাথি ও হিথক্লিফ চরিত্রে মার্গোট
রবি এবং জ্যাকব এলর্ডির মধ্যকার রসায়ন যেমন তীব্রভাবে কামোদ্দীপক, তেমনি তাদের অভিজাত
দ্বন্দ্বে পূর্ণ। ক্ল্যাসিক পিরিয়ড ড্রামার সনাতন ধারা ভেঙে উজ্জ্বল রঙ ও আধুনিক ফ্যাশনের
মেলবন্ধনে নির্মিত এই সিনেমা ব্রন্টে-ভক্তদের নতুন অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
প্রজেক্ট
হেইল ম্যারি : 'দ্য মার্টিয়ান'-এর লেখক অ্যান্ডি উইয়ারের উপন্যাস অবলম্বনে
নির্মিত ফিল লর্ড ও ক্রিস্টোফার মিলারের এই সায়েন্স-ফিকশনটি বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার
ওপর ভিত্তি করে গঠিত। মহাকাশে বিশ্বকে বাঁচানোর অভিযানে স্মৃতিভ্রষ্ট একজন জীববিজ্ঞানের
শিক্ষকের চরিত্রে রায়ান গসলিং তার ট্রেডমার্ক বুদ্ধিমত্তা ও রসবোধ ফুটিয়ে তুলেছেন।
সায়েন্স ফিকশন হওয়া সত্ত্বেও এতে গভীর মানবিক মূল্যবোধ ও অনুসন্ধিৎসা ফুটিয়ে তোলা
হয়েছে।
টু
প্রসিকিউটরস : ইউক্রেনীয় পরিচালক সের্গেই লোজনিতসার ১৯৩৭ সালের স্ট্যালিনবাদী
সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতির ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ
করেছেন এটি। কারাবন্দীর রক্ত দিয়ে লেখা এক গোপন বার্তা পাওয়ার পর একজন আদর্শবাদী তরুণ
আইনজীবী যেভাবে বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হন, তা চরম থ্রিলিং ও কাফকায়েস্ক মনস্তাত্ত্বিক
কায়দায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
ডেড
ম্যানস ওয়ার : ৭০ দশকের বাস্তব পটভূমিতে নির্মিত গাস ভ্যান সান্টের এই
ব্ল্যাক-কমেডি থ্রিলারটি এক সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। নিজের অর্থনৈতিক খরচের জন্য
দায়ী মর্টগেজ ব্রোকারকে অপহরণ করে রেডিওতে প্রচার চালিয়ে রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া
টনি কিরিটসিসের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করেছেন বিল স্কারসগার্ড। সিনেমাটিতে ছোট একটি
বিশেষ চরিত্রে রয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা আল পাচিনো।
দ্য
ড্রামা : জেন্ডায়া ও রবার্ট প্যাটিনসন অভিনীত এই রোমান্টিক-ড্রামা সিনেমাটি
গল্প এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এক মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলারে পরিণত হয়। বিয়ের মাত্র এক
সপ্তাহ আগে কনের এক অন্ধকার গোপন সত্য উদঘাটনের পর শুরু হয় চরম মানসিক টানাপোড়েন।
ক্রিস্টোফার বোরগলির পরিচালনায় জেন্ডায়া ও প্যাটিনসনের অভিনয় তারকাখ্যাতির পাশাপাশি
আন্তর্জাতিক বিনোদন মহলে গভীর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

