ভারতের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু তার জীবনের এক নতুন এবং সুন্দর অধ্যায় পার করছেন। বর্তমানে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। মাতৃত্বের এই বিশেষ সময়েও নিজের ফিটনেস ধরে রাখার পাশাপাশি শরীরের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে কীভাবে জীবনধারা পরিবর্তন করতে হয়, তারই অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন এই অভিনেত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের
ওয়ার্কআউটের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে সামান্থা জানান, একটি নতুন প্রাণকে নিজের ভেতরে
বড় করে তোলার সময়ে শরীরচর্চার ধরন কিছুটা বদলে যায়। তিনি লেখেন, এতদিন তিনি নিজের শরীরকে
সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে গিয়ে কঠোর ব্যায়াম করতে অভ্যস্ত ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি শরীরের
সিগন্যাল বুঝতে শিখেছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কাজের গতি কমিয়ে দিচ্ছেন।
ভিডিওতে সামান্থাকে সিটেড ইনক্লাইন রোয়িং,
ডেডলিফ্ট, কেটলবেল এক্সারসাইজ এবং চেস্ট প্রেসের মতো স্ট্রেংথ ট্রেনিং করতে দেখা গেলেও,
প্রতিটি ব্যায়ামই গর্ভাবস্থার উপযোগী করে কিছুটা পরিবর্তন (মডিফাই) করা হয়েছে। সামান্থা
জানান, এখন আমি সর্বোচ্চ ক্ষমতার ৭০ শতাংশে গিয়েই থেমে যাই। কিছু দিন নিজেকে খুব শক্তিশালী
মনে হয়, কিছু দিন ব্যায়ামের ধরন বদলে নিই, আবার কিছু দিন শুয়ে থেকে শরীরকে বিশ্রাম
দেওয়াই মূল কাজ হয়ে ওঠে।
সামান্থা স্পষ্ট করেছেন যে তিনি কেবল তার
চিকিৎসকের পরামর্শ ও অনুমতি নিয়েই এই স্ট্রেন্থ ট্রেনিং চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া তার
ট্রেইনার প্রাক-প্রসব (প্রিন্যাটাল) ফিটনেসে সার্টিফাইড।
ভক্তদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে অভিনেত্রী
লিখেছেন, প্রতিটি গর্ভাবস্থা আলাদা। তাই আমার ভিডিও দেখে কেউ নিজে নিজে এই ব্যায়ামগুলো
অনুসরণ করবেন না। গর্ভবতী অবস্থায় ব্যায়াম করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও প্রত্যয়িত
ট্রেইনারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, একটি নতুন জীবন শরীরে ধারণ করাই এখন
পর্যন্ত তার শরীরের করা সবচেয়ে শক্তিশালী কাজ।
গর্ভাবস্থায় শরীরচর্চার উপকারিতা সম্পর্কে
ব্যাঙ্গালুরুর মিলান ফার্টিলিটি সেন্টারের স্ত্রীরোগ ও প্রজনন বিশেষজ্ঞ ডক্টর সন্ধ্যা
মিশ্র জানান, গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত হালকা ও শারীরিক সক্ষমতা
অনুযায়ী এক্সারসাইজ করা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ইতিবাচক। নিয়মিত শরীরচর্চা করলে প্রি-এক্লাম্পসিয়া,
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, পিঠের ব্যথা এবং সিজারিয়ান ডেলিভারির ঝুঁকি হ্রাস পায়। এটি
হৃদযন্ত্র ও রক্তনালীকে শক্তিশালী রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সহায়তা করে।
তবে ব্যায়াম করার সময় ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি বোধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তীব্রতা
কমানো বা বিশ্রাম নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন এই চিকিৎসক।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

