Logo

প্রবাস

পরিবার নিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার ৮ পথ, জেনে নিন

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৬

পরিবার নিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার ৮ পথ, জেনে নিন

বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বসবাস করতে চান অনেকেই। কারও লক্ষ্য স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ড পাওয়া, কেউ চাকরি বা ব্যবসার মাধ্যমে কয়েক বছর বৈধভাবে থাকতে চান, আবার কেউ উচ্চশিক্ষার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে সঙ্গে নিতে চান। তবে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের ভিসা প্রযোজ্য নয়। পরিবারের একজন সদস্যের যোগ্যতা, পেশা, শিক্ষা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয় এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ইমিগ্রেশনের পথ আলাদা হয়।

বর্তমান মার্কিন ইমিগ্রেশন নিয়ম অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার কয়েকটি বাস্তব ও বৈধ পথ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু সরাসরি স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ তৈরি করে, আবার কিছু পথ পরিবারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেয়।

১. ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন: প্রথম এবং সবচেয়ে পরিচিত পথ হলো ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন। পরিবারের কোনো সদস্য যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী হন, নির্দিষ্ট পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে তিনি বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক তার স্বামী বা স্ত্রী, নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সন্তান ও বাবা-মায়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া নাগরিকের কিছু প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান এবং ভাই-বোন ফ্যামিলি প্রেফারেন্স ক্যাটাগরির আওতায় আসতে পারেন। গ্রিন কার্ডধারী সাধারণত তার স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত সন্তানদের জন্য পিটিশন করতে পারেন।

তবে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশনের সব ক্যাটাগরিতে ভিসা সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হয় এবং সময়টা মোটামুটি ১২-১৪ বছর।

২. এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন: দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন। কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবীর যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য চাকরির সুযোগ, উচ্চতর ডিগ্রি, বিশেষ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা থাকলে তিনি বিভিন্ন এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

এর মধ্যে ইবি-১, ইবি-২ এবং ইবি-৩ অন্যতম। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এমপ্লয়ার স্পনসরশিপ প্রয়োজন হয়। আবার ইবি-২-এর ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ-এর মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তি নিজে পিটিশন করতে পারেন।

এই ধরনের ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে মূল আবেদনকারী যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডেরিভেটিভ বেনিফিশিয়ারি হিসেবে একই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে পারেন।

৩. ইবি-২ ও ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার: উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ইবি-২ একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রি, দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা বা বিশেষ দক্ষতা থাকা ব্যক্তিরা এই ক্যাটাগরি বিবেচনা করতে পারেন।

আর যোগ্যতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট-এর বিষয়টি প্রমাণ করা গেলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভারের মাধ্যমে কিছু ক্ষেত্রে জব অফার বা লেবার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজনীয়তা থেকে ওয়েইভার পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে।

এই পথের বড় সুবিধা হলো, মূল আবেদনকারী ইমিগ্র্যান্ট ভিসার জন্য যোগ্য হলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও একই কেসের মাধ্যমে যুক্ত হতে পারেন।

৪. ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম: যেসব পরিবারের বড় অঙ্কের বৈধ বিনিয়োগ করার সক্ষমতা রয়েছে, তাদের জন্য ইবি-৫ ইমিগ্র্যান্ট ইনভেস্টর প্রোগ্রাম যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ।

ইবি-৫-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনিয়োগ করতে হয় এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে যোগ্য কর্মসংস্থান তৈরির শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্য ইবি-৫ ইনভেস্টরের সঙ্গে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।

৫. ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা: বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ই-২ ট্রিটি ইনভেস্টর ভিসা। বাংলাদেশ ই-২ ট্রিটি কান্ট্রি হওয়ায় যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিক এই ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

ই-২-এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাস্তব ও পরিচালনাযোগ্য ব্যবসায় সাবস্ট্যানশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট করতে হয় এবং ইনভেস্টরকে ব্যবসাটি পরিচালনা ও উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হয়।

মূল ই-২ আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা ডিপেন্ডেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য ই-২ স্পাউস নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজও করতে পারেন। তবে ই-২ গ্রিন কার্ড নয়। এটি একটি ননইমিগ্র্যান্ট ভিসা। অর্থাৎ ব্যবসা ও ই-২ স্ট্যাটাসের শর্ত বজায় রেখে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে হয়।

৬. এইচ-১বি ও এইচ-৪: কোনো বাংলাদেশি পেশাজীবী যুক্তরাষ্ট্রের যোগ্য এমপ্লয়ার-এর মাধ্যমে এইচ-১বি স্ট্যাটাস পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এইচ-৪ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। এইচ-১বি নিজে গ্রিন কার্ড নয়। তবে যোগ্য কর্মীর ক্ষেত্রে পরবর্তীতে এমপ্লয়মেন্ট-বেসড গ্রিন কার্ডের পথ তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর অতিরিক্ত অর্থপ্রদানের শর্তসহ কিছু বিশেষ বিধিনিষেধ রয়েছে। তাই এইচ-১বি-এর মাধ্যমে পরিবার নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে আবেদন করার সময়কার সর্বশেষ সরকারি নিয়ম যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৭. এল-১ ও এল-২: বাংলাদেশে কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা একই কর্পোরেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ অথবা স্পেশালাইজড নলেজ এমপ্লয়ি হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অফিসে ট্রান্সফার হয়ে এল-১ স্ট্যাটাস পেতে পারেন।

এল-১ কর্মীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এল-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। যোগ্য এল-২ স্পাউস নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগও পেতে পারেন।

বিশেষ করে বাংলাদেশে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন কাজ করা এবং একই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে অফিস রয়েছে, এমন পেশাজীবীদের জন্য এই পথটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

৮. এফ-১ ও এফ-২ : পরিবারের কোনো সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনার জন্য এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা পেলে তার স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ-২ ডিপেন্ডেন্ট স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন। তবে এফ-১ ও এফ-২ হলো ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস। অর্থাৎ এটি সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ নয়। শিক্ষার্থী পরবর্তীতে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপ্লয়মেন্ট-বেসড বা অন্য কোনো বৈধ ইমিগ্রেশন পথ তৈরি করতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে কী দেখবেন: বাংলাদেশ থেকে পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে প্রথমেই ঠিক করতে হবে পরিবারের লক্ষ্য কী। স্থায়ীভাবে গ্রিন কার্ডের দিকে যেতে চাইলে ফ্যামিলি-বেসড ইমিগ্রেশন, এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ইমিগ্রেশন এবং ইবি-৫-এর মতো ইমিগ্র্যান্ট পথগুলো গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে ই-২, এইচ-১বি, এল-১ এবং এফ-১ মূলত টেম্পোরারি বা ননইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ব্যবস্থা।

পরিবারের একজন সদস্যের ভিসা বা পিটিশন অ্যাপ্রুভ হলেই পরিবারের অন্য সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার অধিকার পান না। স্পাউস ও চিলড্রেনকে ডিপেন্ডেন্ট বা ডেরিভেটিভ হিসেবে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বয়স, বৈবাহিক অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা ক্যাটাগরির শর্ত পূরণ করতে হয়।

তাই বাংলাদেশ থেকে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করার আগে পরিবারের বয়স, শিক্ষা, পেশা, কাজের অভিজ্ঞতা, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আত্মীয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের সক্ষমতা এবং স্থায়ী নাকি অস্থায়ীভাবে থাকার লক্ষ্য বিবেচনা করে সঠিক ইমিগ্রেশন পথ বেছে নেওয়া জরুরি।

অনেক ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএস ও ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সবশেষ নিয়ম যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নির পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন