Logo

স্বাস্থ্য

চলতি বছর হাম আক্রান্ত হয়ে ৩৮ শিশুর মৃত্যু

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:২৪

চলতি বছর হাম আক্রান্ত হয়ে ৩৮ শিশুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

হাম আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলায় এই রোগ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই মারা গেছে ৩২ শিশু।

স্বাস্থ্য বিভাগ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ছয় জন, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঁচ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চার জন এবং রাজশাহী ও পাবনায় এক জন করে শিশু মারা গেছে। তবে বিভিন্ন জেলা ও বেসরকারি হাসপাতালের তথ্য যোগ করলে এ বছর মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৪৬ বা তারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মহাখালীর ১০০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এ বছর ৫৬০ জন হামের রোগী এসেছে, যেখানে গত বছর পুরো সময়ে ছিল মাত্র ৬৯ জন। হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট তানজিনা জাহান জানান, চলতি মাসের ২৯ দিনেই ৪৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। রবিবারও সেখানে ৪৫ জন চিকিৎসাধীন ছিল।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও (রামেক) হামের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক। সেখানে একটি আলাদা আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫০ জন এবং নোয়াখালীতে গত ১৫ দিনে ৩০০-এর বেশি শিশু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে টিকা দিতে না পারাকে দায়ী করছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, ‘হামের টিকার প্রথম ডোজ নেওয়ার হার ভালো হলেও দ্বিতীয় ডোজের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। বিশেষ করে পকেট কমিউনিটি বা টিকা না নেওয়া ছোট ছোট গোষ্ঠী এই রোগের জীবাণু বহন করে, যেখান থেকে রোগ ছড়ায়।’

ইপিআই পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, সাধারণত প্রতি চার বছর অন্তর একটি বিশেষ হামের টিকা কর্মসূচি (ক্যাম্পেইন) পরিচালিত হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে এটি হয়েছিল। ২০২৪ সালে দেশের পরিস্থিতির জন্য টিকা কর্মসূচি পরিচালনা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া গত বছর স্বাস্থ্য সহকারীদের ধর্মঘটের কারণে তিনবার নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়েছিল। ভিটামিন-এ এবং কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানোর কর্মসূচি নিয়মিত না হওয়ায় শিশুদের পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমেছে। এটাও হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আরেকটি কারণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যায়ে হামের টিকার মজুদ প্রায় শেষ। মাঠ পর্যায়ে মাত্র এক মাসের সরবরাহ আছে। তবে বিশেষ ক্যাম্পেইনের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা এরই মধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদুল আজহার আগে বা পরে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হতে পারে।

ডা. লুৎফুন্নেসা বলেন, ‘হামের সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, মূলত জটিলতাগুলোর চিকিৎসা করা হয়। শিশুদের চোখের ক্ষতি রোধে ভিটামিন-এ এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা জরুরি।’

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজ মোবারক জানান, এবার ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, যা সচরাচর ঘটে না। মায়েদের টিকা নেওয়া না থাকলে বা শিশুর সঠিক সময়ে টিকা না হলে এই ঝুঁকি বাড়ে।

প্রসঙ্গত, হাম মূলত ‘রুবেলা’ নামের এক অতিসংক্রামক ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত রোগ। উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, রক্তবর্ণের চোখ এবং জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‍্যাশ নিয়ে হাম আবির্ভূত হয়।

বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের দুবার ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। একবার নয় মাস বয়সে আর দ্বিতীয়টি ১৫ মাস বয়সে। ২০২৫ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৮৮ শতাংশ দুই ডোজ ‘এমআর’ টিকা নিয়েছে। তারা প্রায় সারা জীবনের জন্য হামের সংক্রমণ থেকে মুক্ত।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন