রোগীর প্রাণ বাঁচাবে রক্তের এক নতুন পরীক্ষায়
হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক ঝুঁকি ধরা পড়বে আগেই
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১৬
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কতটা, তা জানতে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা হতো এতদিন। কিন্তু নতুন রকম রক্তের পরীক্ষায় একই সঙ্গে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ধরা পড়বে, আবার হৃদ্রোগ ও ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না, তা-ও বোঝা যাবে।
কোলেস্টেরল পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।
বিশেষ এক রকম রক্ত পরীক্ষা করেই বলে দেওয়া সম্ভব, হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না। এমনই দাবি আমেরিকার নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিনের গবেষকদের। গবেষণা বলছে, কেবল কোলেস্টেরল মেপে হার্টের আসল চিত্র পাওয়া অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’ নামে এক বিশেষ রকম প্রোটিনের উপস্থিতি বুঝতে পারলে বলা সম্ভব- হৃদ্রোগের ঝুঁকি কতটা। রক্তে এই প্রোটিন থাকলে তার পরিমাণ দেখে এ-ও বলা সম্ভব যে, সেই ব্যক্তির ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি আছে কি না।
কী এই ‘অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি’?
হৃদ্রোগের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকরা লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষায় দেখতেন রক্তে এলডিএল কী মাত্রায় রয়েছে। কিন্তু এই পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ তো জানা গেল, কিন্তু কোলেস্টেরল বয়ে নিয়ে যাচ্ছে যে ক্ষতিকর কণারা, তাদের গতিপ্রকৃতি না ধরতে পারলে বোঝাই যাবে না, কখন ও কীভাবে সেই খারাপ কোলেস্টেরল প্লাকের মতো জমা হবে রক্তবাহী ধমনিতে। আর ধমনিতে প্লাক জমা মানেই রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে আচমকা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে। নতুন রক্তপরীক্ষায় সেই ক্ষতিকর কণার পরিমাণই দেখা হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, দুজন মানুষের রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা সমান হলেও তাদের ঝুঁকির মাত্রা আলাদা হতে পারে। কারণ, যার রক্তে ওই ক্ষতিকর কণার সংখ্যা বেশি, তার ধমনিতে চর্বি জমার আশঙ্কাও বেশি।
অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি এমন এক ধরনের প্রোটিন যা কোলেস্টেরলবাহী ওই ক্ষতিকর কণাগুলোর ভিতরে থাকে। যার রক্তে ওই প্রোটিনের মাত্রা বেশি, বুঝতে হবে তারই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
প্রায় আড়াই লাখ মানুষের ওপর পরীক্ষাটি করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা। পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে বা যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, তারা এই পরীক্ষাটি করালে বড় বিপদের ঝুঁকি থেকে বেঁচে যাবেন বলেই আশা গবেষকদের।

