হাম সেরে গেলেও শিশুদের তাড়া করে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা
স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ১৯:২২
সংগৃহীত
দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আক্রান্ত হওয়াই নয়- হাম থেকে সুস্থ হওয়ার পরও শিশুদের জন্য ঝুঁকি থেকে যায় দীর্ঘদিন। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, অন্ধত্ব, নিউমোনিয়া, অপুষ্টি ও স্নায়বিক জটিলতার মতো গুরুতর সমস্যায় ভুগতে পারে অনেক শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে গত দেড় মাসে হাম ও হামের উপসর্গে ২৭৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ৪২ হাজার ১৫৯ জন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার গত ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। পরে ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী আরও বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম চালু করা হয়।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকেই দেখা যাবে। মে মাসের মধ্যেই হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিশু বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হাম প্রথমেই শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানে। রোগ সেরে গেলেও কিছু সময় শিশুর শরীর দুর্বল থাকে। এ সময় অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
তিনি জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের মুখে ঘা হওয়া সাধারণ ঘটনা। এতে তারা ঠিকমতো খেতে পারে না, ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। একইসঙ্গে শরীরে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি তৈরি হয়, যা চোখের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তার ভাষ্য, ভিটামিন ‘এ’ কমে গেলে চোখ শুষ্ক হয়ে যায়, কর্নিয়া ঝাপসা হতে পারে। চিকিৎসা না হলে কর্নিয়ায় ঘা তৈরি হয়ে অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে।
ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা আরও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে হাম শিশুর মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। এতে খিঁচুনি, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক সমস্যা বা বিকাশগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া কানে সংক্রমণ হয়ে শ্রবণশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি জানান, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। এতে ফুসফুসে ক্ষত তৈরি হতে পারে, যা ভবিষ্যতে দীর্ঘস্থায়ী কাশি বা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে।
কীভাবে ঝুঁকি কমাবেন
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, হাম থেকে সেরে ওঠা শিশুর খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন মাছ, মাংস, ডিম, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে।
চোখের সুরক্ষায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার যেমন লালশাক, পালংশাক, শালগম ও মিষ্টিকুমড়া খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস অন্তর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
মায়ের দুধের বিকল্প নেই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম বয়সী শিশুদের জন্য মায়ের বুকের দুধ সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। বিশেষ করে ছয় মাসের কম বয়সী শিশু, যাদের হামের টিকা দেওয়া যায় না, তারা মায়ের দুধ থেকেই রোগ প্রতিরোধী উপাদান পেয়ে থাকে।
তাই হাম প্রতিরোধে টিকা যেমন জরুরি, তেমনি আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুর সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টিকর খাবার এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশেরখবর/আরকে

