রাজধানীর আদ-দ্বীনে একসঙ্গে ৬ নবজাতকের মৃত্যু, তদন্ত কমিটি গঠন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মে ২০২৬, ১৪:৪৪
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় ৩ সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। আগামী তিন দিনের মধ্যে এই তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেবে।
বুধবার (২৮ মে) আদ-দ্বীন হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস এ তথ্য জানান।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আজ ভোরে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। এটি হচ্ছে সেই ডেলিভারি ওয়ার্ডে চিকিৎসারত শিশুদের মধ্য থেকে আমরা ৬ জন নবজাতক শিশুকে হারিয়েছি।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রশাসন, হাসপাতাল পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডটি সরজমিন পরিদর্শন করে জানতে পারি এখানে ১১ জন মা ছিলেন। তার মধ্যে ৬ জন মা তাদের শিশু সন্তানসহ ছিলেন। যাদের বয়স একদিন থেকে তিন দিনের ভেতরে ছিলো। আর বাকি পাঁচজন এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু আজ ভোরে এই রুমটিতে এসি জটিলতা অথবা যেকোনো কারণেই হোক ওখানের যে পরিবেশ একটি সাফোকেটিভ পরিবেশের মতো আমরা পেয়েছি। ওখানে আসলে এসি এমনভাবে ছিল যে, এসিটি বন্ধ করলে ওখানে আর ভেন্টিলেশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
তিনি আরো বলেন, এরকম একটি পরিস্থিতির মধ্যে এই নবজাতক শিশুরা এখানে যে সেবার জন্য ছিল, এরকম একটি পরিস্থিতিতে আমরা ভোরে ৬ জন শিশুকে হারিয়েছি। এই বিষয়ে আমরা এরইমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নির্দেশে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এই ব্যবস্থাপনার কোন ত্রুটি আছে কিনা? এবং এই মৃত্যুর কারণ কী, তা সঠিকভাবে নির্ণয় করার জন্য একটি উচ্চপদস্থ একটি ইনকয়ারি কমিটি আমরা গঠন করেছি এবং এটি স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হাসপাতাল পর্যায়ে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইং-এর উপপরিচালক পদমর্যাদায় একজন এবং আরো একজন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে করা হয়েছে।
কমিটি হাসপাতালের যে রুমটিতে আমরা এই শিশুদেরকে চিকিৎসা ব্যবস্থায় হারিয়েছি, তাদের এই চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা? এবং যে রুমটিতে ওনারা অবস্থান করছিলেন সেই রুমটিতে যে সেবা দেওয়া হচ্ছিল সেই সেবার যে পরিবেশ, সেই পরিবেশের মধ্যে যে প্রশ্নটি এসেছে যে ওখানকার এসি জটিলতা অথবা যদি কারিগরি অন্য কোনো, ত্রুটি থাকে, সেগুলো সঠিকভাবে নির্ণয় করে এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাদের মৃত্যুর কারণ উত্থাপন করে আগামী ৪০ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দেবে। রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, এই ব্যাপারে যদি কারো কোনো গাফিলতি এবং সেটা সেবার ক্ষেত্রে যে ওয়ার্ড যে ব্যবস্থাপনা ছিলো, সে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যদি দায়িত্বে অবহেলা হয় এবং এর যদি অবকাঠামোগত কোনো কারিগরি ত্রুটি ধরা পড়ে সেটির জন্য স্তর বেঁধে যথাযথ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশের খবর/ এইচআর

