দেশে হাম ও ডেঙ্গুতে মৃত্যু রোধ করা যাচ্ছে না, জনস্বাস্থ্যে সংকট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১০
ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছর দেশে এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিয়েছে। একদিকে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যু এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ; অন্যদিকে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অতীত টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘদিনের সাফল্য ও সনদ প্রাপ্তির দোরগোড়ায় থাকা সত্ত্বেও, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা, টিকা সংগ্রহের নীতিতে পরিবর্তন এবং টিকাদান কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ঘাটতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হামে তিন শিশুর মৃত্যু: দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৮৮টি শিশু।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯০২ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট এক হাজার দুটি শিশু মারা গেছে।
এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৬৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা এক হাজার ১১৯। এই সময়ে এক হাজার ৩৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৬৯টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৮০, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৯০৪। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট এক লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৩ রোগী, যাদের মধ্যে এক লাখ ৪১ হাজার ৮১৯ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
এত মৃত্যু আগে হয়নি: হাম ও এর উপসর্গে এত শিশুর মৃত্যু দেশের ইতিহাসে আগে ঘটেনি। গত প্রায় আট বছর ধরে মৃত্যু দূরে থাক, হামে সংক্রমণ সংখ্যা ৪০০’র বেশি হয়নি। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের হাম দূরীকরণের লক্ষ্য ছিল। আর এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে হাম নির্মূলের সনদ পাওয়া যেত। কিন্তু এবার একেবারে উল্টো হয়ে গেল পরিস্থিতি।
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হামের টিকা দেওয়ার কাজে চরম অবহেলার এর পেছনে প্রধান কারণ বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। চলতি বছরের শুরু থেকেই হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও সে বিষয়ে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। মার্চ মাস থেকে হাম বাড়তে শুরু করে ব্যাপকভাবে। কিন্তু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এপ্রিল থেকে মে মাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাসজুড়ে চলে গণটিকাদান। কিন্তু সে সময়ও প্রায় ৪০ লাখ শিশু বাদ পরে যায়।
গত সোমবার হামে মৃত্যুর সংখ্যা যখন হাজার ছুঁইছুঁই, সেদিন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক পরিচালক মাহমুদুর রহমান বলেছিলেন, ‘হামে এত মৃত্যু আমার জানা মতে এদেশে আগে হয়নি। এত সংক্রমণও হয়নি। এটা আমাদের দুর্ভাগ্য, এর শিকার হলো শিশুরা।’
বাংলাদেশ এ বছর হাম সংক্রমণে শীর্ষে উঠে এলেও আগের বছরগুলোয় চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২৫ সালে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭, ২০২৩ সালে ২৮২, ২০২২ সালে ৩১১ জন।
জনস্বাস্থ্যবিদ তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, এবার বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে হামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশে এত হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড নেই। এটা নজিরবিহীন।
সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানে একসময় বাংলাদেশের সাফল্য বিশ্বজুড়ে ছিল আলোচিত। নিয়মিত টিকাদান, জাতীয় ক্যাম্পেইনের কারণে হামসহ এ ধরনের রোগের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব এড়ানো যাচ্ছিল। এখন সংকট দেখা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় টিকাদানের ঘাটতিকে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডব্লিউএইচওর তথ্যে দেখা যায়, ২০০৬ সালের জাতীয় হাম টিকাদান কর্মসূচিতে নয় মাস থেকে ১০ বছর বয়সী তিন কোটি ৪২ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার পুরোটাই বা ১০০ শতাংশ অর্জিত হয়েছিল।
২০১০ সালে ফলোআপ ক্যাম্পেইনে লক্ষ্যমাত্রা ছিল নয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী এক কোটি ৮১ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া। সেবারও কাভারেজ ছিল ১০০ শতাংশ। ২০১৪ সালে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা কর্মসূচির মাধ্যমে নয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী পাঁচ কোটি ২৭ লাখ শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছিল। সেবার কাভারেজ ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
২০২০-২১ সালের পর বিশেষ ক্যাম্পেইন আর হয়নি। এর মধ্যে নিয়মিত টিকাদানের কাভারেজও কমতে থাকে। ২০২৫ সালে এ হার ৫৯ শতাংশে নেমে আসে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টিকার স্বল্পতাও দেখা দেয়।
জাতিসংঘ শিশু সংস্থা ইউনিসেফের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া ৫ মে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিলে ইউনিসেফ বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে ভ্যাকসিন সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্ব হবে এবং রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
এবার প্রাদুর্ভাবের পর গত এপ্রিলে বর্তমান বিএনপি সরকার ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের হামের টিকাদানে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু করে, কিন্তু তাতেও ৪৬ লাখ শিশু হামের টিকা থেকে বাদ পড়ে গেছে। কারণ, হামের টিকা দিতে এই বয়সী এক কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুর হিসাব করা হয়, কিন্তু গত জুনে একই বয়সী দুই কোটি ২৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইনে আওতায় আনা হয়।
ডেঙ্গুতে আরও তিন জনের মৃত্যু: সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অন্তত তিনজন মারা গেছেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৪৬৩ জন।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটিতে একজন, ময়মনসিংহ বিভাগে একজন ও রংপুর বিভাগে একজন রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত মোট ১৩৩ জন মারা গেছেন। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩৮ জন।
মঙ্গলবার চলতি বছরে একদিনে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৯ জনের মৃত্যুর রেকর্ড হয়। একইদিন হাসপাতালে ভর্তি হন রেকর্ড ১ হাজার ৫৭১ জন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসের অভিযান: ডেঙ্গু প্রতিরোধে ও বিস্তার রোধে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন অভিযান-২০২৬’ শুরু হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস বাস্তবায়ন উপলক্ষে জরুরি মতবিনিময় সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এডিস মশার লার্ভা বেশি উৎপন্ন হওয়ায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে।
গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ সময় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। তাই রোগীর চিকিৎসার পাশাপাশি এবার সরকার ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে আলাদাভাবে পাঁচটি করে শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত হাসপাতালেও চিকিৎসাব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকানো।
তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে এবং এডিস মশার লার্ভা উৎপাদনের সুযোগ বন্ধ করা গেলে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবে কমে আসবে। এ বিষয়টিকে সামনে রেখেই তিন মাসব্যাপী এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও মহানগর পর্যায়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এডিস মশার লার্ভা উৎপন্ন হতে পারে এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে ধ্বংস করার পাশাপাশি সাধারণ ময়লা-আবর্জনাও পরিষ্কার করা হবে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচিতে যুক্ত করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি কলেজ, হাইস্কুল ও মাদরাসা তাদের নির্ধারিত এলাকায় প্রতি শনিবার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করবে। স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যৌথভাবে স্থান নির্ধারণ করবে। এসব স্থানের মধ্যে নর্দমা, পুকুরের কচুরিপানা, খাল, খেলার মাঠ কিংবা মানুষের চলাচলের স্থান থাকতে পারে।
তিনি বলেন, উদ্বোধনী কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিলটনকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে তথ্য মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, মাউসি, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউট এবং দুই সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে। জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা ও মাঠপর্যায়ে প্রচার-প্রচারণায় তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য বিভাগ প্রশাসনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মহানগরের ইলেকট্রনিক বিলবোর্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক ভিডিও প্রচার শুরু হয়েছে। এসব ভিডিও প্রতি ঘণ্টায় দুই থেকে তিনবার দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, জাতীয় কর্মসূচির কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুল সত্তার। জাতীয় পর্যায় থেকে জেলা ও মাঠপর্যায় পর্যন্ত কর্মসূচির প্রচার ও জনসম্পৃক্ততায় তথ্য মন্ত্রণালয় ও তথ্য বিভাগ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে-স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী: চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি জানান, দেশব্যাপী মঙ্গলবার থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে।
বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘আঁচল ফাউন্ডেশন’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ যৌথভাবে এই সেমিনারের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারের মূল লক্ষ্য দুটি— আক্রান্তের সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনার ওপর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ডেঙ্গুর চূড়ান্ত সময়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী দেশে পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত শয্যা চালু করা হয়েছে। রোগীর চাপ বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার আওতায় আনা হবে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গুর সম্ভাব্য চূড়ান্ত সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংকট তৈরি হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। এই সময়ে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় অযৌক্তিকভাবে বাড়ানো যাবে না এবং প্রতিটি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা প্রস্তুত রাখতে হবে।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

