# চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই, মৃত্যু তিনশর ঘরে
# নভেম্বরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
# হাম উপসর্গ ও ডেঙ্গুতে আরো ৮ মৃত্যু
# অক্টোবরের ৯ দিনেই ডেঙ্গুতে অর্ধশত মৃত্যু
# একই সময়ে দুই রোগের চাপ উদ্বেগজনক
# স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর দ্বৈত চাপ
চলতি বছর দেশে হাম এবং ডেঙ্গু জ্বরের যৌথ প্রাদুর্ভাব জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর একটি নজিরবিহীন ও মারাত্মক চাপ তৈরি করেছে। সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাণ্ডব চালানো ডেঙ্গু ছুটছে লাগামহীনভাবে। হাসপাতালে বাড়ছে রোগী এবং দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর সারি।
একদিকে বছরের শুরু থেকে চলা দেশের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ হামের সংক্রমণ এবং অন্যদিকে বর্ষা-পরবর্তী ডেঙ্গুর লাগামহীন তাণ্ডব—এই দুইয়ের জোড়া আঘাতে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।
সারা দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৪৯ জন। এছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে নতুন ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩০০ জন। ফলে এবার মোট ভর্তি ৯৫ হাজার ৪৫১ জন।
এদিকে, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এম এ মুহিত। আগামী নভেম্বরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ডেঙ্গুতে চলতি মৌসুমে এরইমধ্যে আক্রান্ত লাখ ছুঁইছুঁই এবং মৃত্যুর সংখ্যা শ্বাস ফেলছে তিনশ’র ঘাড়ে। এর মধ্যে অক্টোবরের প্রথম আটদিনেই আক্রান্ত সাড়ে ১৪ হাজার এবং মৃত্যু অর্ধশত।
পাঁচ বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি থাকে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে। তবে, এর মধ্যে নভেম্বর মাসে কোনো কোনো বছর ডেঙ্গু রোগী কমতে দেখা গেলেও এবার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বর্তমান আদ্রতা, মশার ঘনত্ব ও রোগীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে কীটতত্ত্ববিদদের আশঙ্কা এবার শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও নভেম্বর মাসে জুড়ে চলবে ডেঙ্গুর তাণ্ডব।
মশা গবেষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশারের দাবি, সিটি করপোরেশনগুলো এডিস নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক কাজ করলেও প্রকৃত সুফল মিলছে না। এর জন্য দায়ী করছেন, ঢালাওভাবে নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে।
তিনি আরও বলেন, এডিসের প্রজননস্থল টার্গেট করে ধ্বংস করতে না পারলে ফলাফল পাওয়া সম্ভব নয়। মশক নিধনে সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পারলে এডিস নিয়ন্ত্রিত পর্যায়ে রাখা সম্ভব।
নভেম্বরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমেবে- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী: দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. এম এ মুহিত। আগামী নভেম্বরের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। গতকাল দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনসিডি কর্নার পরিদর্শন ও ব্রেস্টফিডিং কর্নার উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে ৭২ শতাংশের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় অসংক্রামক রোগে। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের বেশি মারা যান হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকে। এসব রোগের ঝুঁকি কমাতে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এনসিডি কর্নারে সারা বছর ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুরে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ৫ হাজার ১৮২ জন নিবন্ধিত রোগী নিয়মিত সেবা নেন। তবে ওষুধের অনিয়মিত সরবরাহে তাদের ফলোআপ সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে, রাজধানী ঢাকাবাসীর আতঙ্কের নাম হাম। একদিকে হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, অন্যদিকে বর্ষার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। ফলে একই সময়ে দুই রোগের চাপ সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন নগরবাসী। বিশেষ করে শিশুদের হাম এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেকে।
হামের উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু: সারা দেশে গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৩৪৯ জন।
গতকাল শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে একজন করে মারা গেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট এক হাজার ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৪৩ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক হাজার ২৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন হাম সংক্রমণের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৮৯৩ জনে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮১ জন। ফলে দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ৮০ হাজার ৭৯ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক লাখ ৭২ হাজার ৭০৫ জন।
অক্টোবরের ৯ দিনেই ডেঙ্গুতে অর্ধশত মৃত্যু: দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি অক্টোবরের প্রথম ৯ দিনে ৫০ জনের মৃত্যু হলো। আর এ বছর মোট মারা গেলেন ২৯৫ জন। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এছাড়া হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৩০০ জন। এর ফলে এবার মোট ভর্তি হলেন ৯৫ হাজার ৪৫১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন মারা গেছে একজন ছেলে শিশু। শিশুটির বয়স শূন্য থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। মোট মারা যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২৯৫ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পুরুষ ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ। মাসের হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে শূন্য, মে মাসে এক ও জুনে ১৩ জন প্রাণ হারান। এরপর পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। জুলাইয়ে ৩৬ এবং আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেই তুলনায় সেপ্টেম্বরে অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। প্রাণহানি হয় ১৪৮ জনের। আর চলতি অক্টোবরে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫০ জনের। এর মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জন মারা যান ৬ অক্টোবর।
ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৮০, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৩৫ ও সিটি করপোরেশনের বাইরে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে খুলনায় ৬০, চট্টগ্রাম ও বরিশালে ২৫ জন করে, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ২১, রংপুরে ছয় ও সিলেটে তিনজন মারা গেছেন।
রোগীর মাসভিত্তিক হিসাব মতে, অক্টোবরে এখন পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৩১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগের মাস সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন।
এর আগে জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে নয় হাজার ২০৬ ও আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৩৮০ জন।
এদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৫১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন আরও ৫৭ জন। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মুসকান আরা মিম (১৬) নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একই সময়ে দুই রোগের চাপ উদ্বেগজনক: হাম ও ডেঙ্গু সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের রোগ। হাম ভাইরাসজনিত এবং অত্যন্ত সংক্রামক; অন্যদিকে ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। কিন্তু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এদের প্রভাব একই সময়ে পড়লে সমস্যা জটিল হয়ে উঠতে পারে। একদিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, স্যালাইন ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রয়োজন বাড়ছে। অন্যদিকে হাম আক্রান্ত শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। ফলে হাসপাতালের সাধারণ শয্যা, শিশু ওয়ার্ড এবং জরুরি বিভাগ সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই সময়ে ডেঙ্গু ও হাম মোকাবিলা করতে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর কারণে চিকিৎসা অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর দ্বৈত চাপ: স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের পরিস্থিতিও স্বাস্থ্য খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাম ও ডেঙ্গুর এই ‘দ্বৈত চাপ’ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের কারণ। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আগে থেকেই ব্যবহৃত রাজধানীর বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে এখন হামের রোগীকেও সামলাতে হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু রোগী দ্রুত বাড়তে থাকলে শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধার ওপর বাড়তি চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা হামের অন্যতম বড় কেন্দ্র। ঢাকায় ঘনবসতিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে সংক্রমণ বেশি দেখা গেছে। হাম প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করছে। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। ফলে একই পরিবারের একাধিক সদস্য ভিন্ন ভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের ক্ষেত্রে টিকাদান কর্মসূচি আরও কার্যকর করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শিশুদের শনাক্ত করে টিকা নিশ্চিত করা এবং আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি। আর ডেঙ্গু মোকাবিলায় ডিএনসিসি ও ডিএসসিসিকে নিয়মিত মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস, হটস্পটভিত্তিক অভিযান এবং নির্মাণাধীন ভবন ও পরিত্যক্ত স্থাপনায় নজরদারি বাড়াতে হবে।
কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত এবং ডেঙ্গু হটস্পট ব্যবস্থাপনার ওপর পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় এডিস মশার প্রজনন শুরু হয়েছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ জ্যামিতিক হারে বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর উৎপত্তিস্থল বা হটস্পটগুলো পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে চিহ্নিত করে সেখানে দ্রুত মশা নিধনের ব্যবস্থা নিতে হবে। মশা নিধন অভিযান জোরদার, সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো জরুরি।
টিকাদান কর্মসূচিতে জোর: হাম মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৪ লাখ টিকাবঞ্চিত বা আগে বাদ পড়ে যাওয়া শিশুকে লক্ষ্য করে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এ কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় সরকার দেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ও টিকা-নির্ভর রোগের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে একটি স্বাধীন পর্যালোচনাও শুরু করেছে। ৪ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই পর্যালোচনায় দেশের আটটি বিভাগেই বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে।
এর লক্ষ্য হলো টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নির্ধারণ করা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এই পর্যালোচনায় টিকা সরবরাহ, সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মী, টিকাদানের আওতা, রোগ নজরদারি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: হামের লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া এবং অপুষ্ট শিশুদের বিশেষ পুষ্টি নিশ্চিত করা উচিত। যেসব এলাকায় টিকাদানের হার কম বা অপুষ্টি বেশি, সেখানে বাদ পড়া শিশু ও নারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত সম্পূরক টিকাদানের আওতায় আনতে হবে।
জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে দেরি না করে শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা প্রয়োজন, যাতে অন্য শিশুরা সংক্রমিত না হয়। সন্তান নেওয়ার আগেই নারীদের শরীরে অ্যান্টিবডি আছে কি না তা নিশ্চিত করা এবং বাদ পড়া তরুণীদের হামের টিকা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

