ট্রাম্পের শুল্ক পদক্ষেপ : বিশ্ব নেতাদের পাল্টা প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১৫:০৩

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক ঘাটতি কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই পরিকল্পনার অধীনে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের রপ্তানি শুল্ক বৃদ্ধি করেছেন।
বুধবার (২ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে এই পরিকল্পনা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি ২ এপ্রিলকে ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এ ছাড়া নতুন শুল্ক আরোপকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা’ বলে বর্ণনা করেন।
তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিভিন্ন বৈশ্বিক নেতা ইতিমধ্যেই পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের হুমকি দিয়েছেন। খবর— রয়টার্স
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ওপর ২০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন। ইইউ প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কী কী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিতে পারে, তা চূড়ান্ত করছে। তবে প্রথমে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান তারা। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চীন
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। দেশটির ওপর ট্রাম্প ২৪ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায় এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার চীনের রয়েছে, যা তারা গ্রহণ করবে।
জাপান
জাপানের ওপর ২৪ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপের পর দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ইওজি মাতো বলেছেন, এটি একটি দুঃখজনক সিদ্ধান্ত। তিনি এর বেশি কিছু বলেননি।
দক্ষিণ কোরিয়া
দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ২৫ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপের পর, ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হান ডাক-সু কোনো সমালোচনা করেননি। তিনি কেবলমাত্র শুল্ক আরোপের ফলে যেসব খাতে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তা প্রতিরোধের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
কানাডা
কানাডার ওপর নতুন শুল্কের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ২৫ শতাংশ শুল্কের পাশাপাশি ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পাল্টা পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
মেক্সিকো
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম জানান, তারা ‘টিট ফর ট্যাট’ নীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে শুল্কের বিপরীতে তারা বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা করছে।
অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার ওপর ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, তার সরকার মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে না, তবে শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় থাকবে।
ব্রাজিল
ব্রাজিলের ওপরও ১০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সদস্যপদ ফিরে পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।