দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করল আদালত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ১০:০০

ছবি : রয়টার্স
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক ইয়োলকে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দেশটির সাংবিধানিক আদালত অপসারণ করেছে। এর ফলে, সংবিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী হান ডাক-সু নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। খবর- রয়টার্স।
অতিরিক্ত প্রধান বিচারপতি মুন হ্যাং-বাই বলেন, ইয়ুন তার সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন এবং তার কর্মকাণ্ড গণতন্ত্রের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইয়ুন জনগণের বিশ্বাসের সাথে গুরুতর বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, যেহেতু জনগণই গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌম মালিক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ইয়ুন সামরিক আইন ঘোষণা করে দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন, যা সমাজ, অর্থনীতি এবং পররাষ্ট্রনীতিকে বিশৃঙ্খল করেছিল।
আটজন বিচারপতির সর্বসম্মতিতে আদালত এই রায় দিয়েছেন বলেও জানান মুন হ্যাং-বাই।
রায় শোনার পর হাজার হাজার প্রতিবাদী আনন্দে ফেটে পড়েন। ‘আমরা জিতেছি!’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন তারা।
এই রায়ের মাধ্যমে দেশটির কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার সমাপ্তি ঘটল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক মন্দার মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করছিল।
এছাড়াও, ৬৪ বছর বয়সী ইউন রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে এখনো ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি। তিনি জানুয়ারির ১৫ তারিখে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথম বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসেবে গ্রেপ্তার হন। যদিও মার্চ মাসে আদালত তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করলে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ সংকটের শুরু হয়েছিল ৩ ডিসেম্বর ইয়ুনের সামরিক আইন ঘোষণার মাধ্যমে। তিনি বলেছিলেন ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ উপাদানগুলো নির্মূল করার জন্য এই ঘোষণা প্রয়োজনীয় ছিল। তিনি বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহারকে দেশটির জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছিলেন।
ইয়ুনের ঘোষণার ছয় ঘণ্টা পরই সামরিক আইন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়, যখন আইনপ্রণেতারা সংসদে পৌঁছানোর জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা অতিক্রম করে আইনটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। ইয়ুন পরে বলেন, তিনি কখনোই পুরোপুরি জরুরি সামরিক শাসন চাপিয়ে দিতে চাননি এবং এর প্রভাব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করে বলেছিলেন যে, এতে কেউ আহত হয়নি।
এরপর টানা কয়েক মাস ধরে দেশজুড়ে প্রতিবাদ চলতে থাকে। তবে এটা এখনো নিশ্চিত নয়, ইয়ুনের সামরিক আইন ঘোষণার পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা আদালতের রায় দিয়ে শান্ত হবে কিনা।
এমএইচএস