নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির মুসলিম শিক্ষার্থীদের প্রার্থনাকক্ষ ভাঙচুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১৫:৩৫

নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে (এনওয়াইইউ) মুসলিম ছাত্রদের ব্যবহৃত একটি প্রার্থনাকক্ষ বৃহস্পতিবার বিকেলে ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক অধিকার গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনা তদন্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছে।
এনওয়াইইউর গ্লোবাল ক্যাম্পাস সেফটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাউন্টেন ওয়াকার শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিটিকে এক বার্তায় এই ঘটনাকে ‘ধর্মীয় স্থানের অশ্রদ্ধা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সেফটি বিভাগ এই ঘটনার তদন্ত করছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের হেট ক্রাইম টাস্ক ফোর্সও তদন্ত করছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যেকোনো তথ্য জানাতে ছাত্রদের ক্যাম্পাস সেফটির সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
এনওয়াইইউর ইসলামী কেন্দ্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে ববস্ট লাইব্রেরির প্রার্থনা কক্ষে ভাঙচুর ও মুসলিম বিরোধী গ্রাফিতি দেখতে পান একজন শিক্ষার্থী। এ ঘটনার কারণে ছাত্রদের মধ্যে ভয়, ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রটি এক বিবৃতিতে বলেছে, যদিও আমাদের মন ভারাক্রান্ত, কিন্তু বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে। এটা বিচ্ছিন্ন বা একক কোনো ঘটনা নয়, আমাদের মুসলিম কমিউনিটির অনেকেই গত কয়েক বছরে বাড়তে থাকা ইসলামোফোবিয়া ও মুসলিম বিরোধী বক্তব্যের সম্মুখীন হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস কাউন্সিল (সিএআইআর) এ ঘটনার জবাবদিহিতা ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গঠনের দাবি জানিয়েছে।
সিএআইআরের নিউ ইয়র্কের নির্বাহী পরিচালক আফাফ নাশার বলেন, ধর্মীয় স্থানের উপর এই অশ্রদ্ধা মুসলিম কমিউনিটির ওপর সরাসরি আক্রমণ। যেকোনো ছাত্র যখন তাদের প্রার্থনা স্থানে—একটি পবিত্র স্থানে—হাঁটতে যাবে এবং দেখতে পাবে এটি অপবিত্র করা হয়েছে, তা গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
ইসলামী কেন্দ্র জানিয়েছে, এটি নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছে যাতে প্রার্থনা কক্ষটি দ্রুত পুনঃস্থাপন করা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনও গ্রাফিতির প্রকৃতি বা ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে জনসমক্ষে কিছু বলেনি, তবে তদন্ত চলমান রয়েছে। নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি প্রার্থনা স্থানের আশপাশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ওএফ