ফাইল ছবি
ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নিহত এবং জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আহত হয়েছেন বলে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এই জল্পনা শুরু হলেও এর স্বপক্ষে কোনো জোরালো প্রমাণ মেলেনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এই দাবিকে ‘নিছক গুজব’ ও ‘ভুয়া খবর’ (ফেক নিউজ) বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সোমবার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই নেতানিয়াহু নিহত হন। প্রতিবেদনটিতে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি কথিত ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পোস্টের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়। রিটারের ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, হামলার সময় বেন-গভিরও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি আহত হয়েছেন।
তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে স্কট রিটারের নামে এই তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেটি আসল কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই কিছু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই গুঞ্জনকে উসকে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ না হওয়া, তার বাসভবনের চারপাশে নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং কিছু বিদেশি কূটনীতিকের পূর্বনির্ধারিত সফর স্থগিত হওয়া।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের রেকর্ড বলছে, গত ৭ মার্চ বীরশেবা এলাকায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আহতদের দেখতে সশরীরে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহু। এমনকি আজও (১০ মার্চ) তার দপ্তর থেকে একটি বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে যে, ইরানি নেতৃত্বের ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ আরও জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ মার্চও ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল যে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর দপ্তর ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে পরে চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে জানায়, ওই খবরটি ছিল সম্পূর্ণ গুজব এবং নেতানিয়াহুর দপ্তর অক্ষত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যে এক ধরনের ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ চলছে, যার অংশ হিসেবে এ ধরনের অসমর্থিত খবর প্রায়ই সামনে আসছে।
এমএইচএস

