একাত্তরের গণহত্যার বিচার চেয়ে বাংলাদেশের পাশে ভারত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:৪৩
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বরোচিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ন্যায়বিচার পাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার জোরালো ঘোষণা দিয়েছে ভারত। গতকাল শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল এই সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, একাত্তরের সেই ভয়াবহ নৃশংসতা বিশ্ববিবেককে নাড়িয়ে দিলেও পাকিস্তান আজও তা অস্বীকার করে চলেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
রণধীর জয়সোয়াল তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের
‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর ভয়াবহতা স্মরণ
করে বলেন, “পাক বাহিনী যেভাবে পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে লাখ লাখ
নিরীহ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে এবং নারীদের ওপর গণ-যৌন সহিংসতা চালিয়েছে, সে সম্পর্কে
আমরা সবাই অবগত। এই নিষ্ঠুরতা থেকে বাঁচতে কোটি মানুষ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয়
নিতে বাধ্য হয়েছিল। বাংলাদেশ এই জঘন্য অপরাধের যে ন্যায়বিচার চাইছে, ভারত তাতে পূর্ণ
সমর্থন জানায়।”
বাংলাদেশ গত বেশ কয়েক বছর ধরে একাত্তরের
২৫ মার্চের হত্যাকাণ্ডকে বৈশ্বিক ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি
আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টেও (কংগ্রেস) এ সংক্রান্ত
প্রস্তাব উঠেছে। গত ২৪ মার্চ ঈদ পরবর্তী প্রথম কর্মদিবসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের জানান, বর্তমান সরকার একাত্তরের গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির
প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বর্তমানে চলমান
রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই প্রকাশ্য সমর্থন আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের
ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং ঐতিহাসিক সত্যতা প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশে নতুন সরকার (বিএনপি) গঠনের পর
ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে নয়াদিল্লি।
জয়সোয়াল উল্লেখ করেন, গত মাসে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার
ওম বিড়লাকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
স্পিকারের মাধ্যমে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায়
প্রধানমন্ত্রী মোদি দুই দেশের সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেছেন। জয়সোয়াল
বলেন, “আমরা বাংলাদেশের
সাথে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তা আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত
করতে চাই। দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শুরু
হওয়া ‘অপারেশন সার্চলাইট’ থেকে শুরু করে
১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ পর্যন্ত ৯ মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের
হাতে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হন এবং ২ লাখ নারী সম্ভ্রম হারান। ইতিহাসের এই নৃশংসতম অধ্যায়ের
বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

