Logo

আন্তর্জাতিক

চীনে সমাধির জায়গা নিয়ে তীব্র সংকট, আসছে নতুন আইন

চীনেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ২০:০০

চীনে সমাধির জায়গা নিয়ে তীব্র সংকট, আসছে নতুন আইন

কবরস্থানের দুষ্প্রাপ্যতা এবং চড়া মূল্যের কারণে চীনের এই ‘মরণোত্তর আবাসন’ সংকট দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে

চীনে আকাশচুম্বী আবাসন সংকটের পর এবার দেখা দিয়েছে সমাধি বা কবরের জায়গার তীব্র সংকট। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক পরিবার তাদের মৃত আত্মীয়দের চিতাভস্ম রাখার জন্য শ্মশান বা সমাধিস্থলের বদলে সাধারণ আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট বেছে নিচ্ছেন। এই অদ্ভুত ও ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ঠেকাতে এবার কঠোর আইন প্রণয়ন করতে যাচ্ছে শি জিনপিং প্রশাসন।

চীনে এই প্রথাটি গুহুই ফাং বা চিতাভস্মের অ্যাপার্টমেন্ট নামে পরিচিত। দ্রুত নগরায়ণ এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শহরগুলোতে সমাধিস্থলের জায়গার দাম এখন সাধারণ ফ্ল্যাটের চেয়েও বেশি। ফলে অনেক পরিবার দূরদর্শী চিন্তা থেকে জনশূন্য কোনো হাই-রাইজ বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট কিনে সেখানে প্রিয়জনের ভস্ম সংরক্ষণ করছেন। এসব ফ্ল্যাটকে অনেকটা পারিবারিক মন্দিরের রূপ দেওয়া হয়, যেখানে মোমবাতি, লাল বাতি এবং সারিবদ্ধভাবে পূর্বপুরুষদের চিতাভস্মের পাত্র রাখা থাকে।

বীমা কোম্পানি সানলাইফ-এর ২০২০ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, জাপানের পর চীনেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। বিপরীতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে চীনে সম্পত্তির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। এছাড়া চীনের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি কবরের জায়গার লিজ থাকে মাত্র ২০ বছর আন একটি ফ্ল্যাটের ব্যবহারের অধিকার থাকে ৭০ বছর পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদী সুবিধা এবং কম খরচের কারণে অনেক চীনা নাগরিক এখন কবরের চেয়ে ফ্ল্যাট কেনাকেই মৃত স্বজনদের শেষ ঠিকানার জন্য অধিকতর লাভজনক মনে করছেন।

আগামী রোববার চীনের ঐতিহ্যবাহী চিংমিং বা সমাধি পরিষ্কার করার উৎসব। এই উৎসবের ঠিক আগেই মঙ্গলবার থেকে নতুন আইনটি কার্যকর হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, আবাসিক ভবনকে চিতাভস্ম সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা যাবে না এবং পাবলিক সিমেট্রি বা নির্ধারিত শ্মশান এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও মৃতদেহ সৎকার বা ভস্ম রাখা নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ৯৯ শতাংশ ছাড় দিলেও সমাধিস্থলের দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অন্য একজন প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কি প্রতিটি ভস্মের পাত্রে জিপিএস ট্র্যাকার লাগিয়ে দেবে? ঘরের ভেতর কে কী রাখছে তা পরীক্ষা করবে কে?

চীনের জনসংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেলেও বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ মানুষের, যা জন্মহারের চেয়ে অনেক বেশি। জায়গার সংকট মেটাতে সাংহাইয়ের মতো বড় শহরগুলোতে এখন ইকোলজিক্যাল বারিয়াল বা পরিবেশবান্ধব শেষ বিদায়ের জন্য ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সমুদ্রের পানিতে চিতাভস্ম ভাসিয়ে দেওয়া। গত বছর সাংহাইয়ে সমুদ্র সমাধির সংখ্যা রেকর্ড ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কবরস্থানের দুষ্প্রাপ্যতা এবং চড়া মূল্যের কারণে চীনের এই মরণোত্তর আবাসন সংকট দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন