মিথেন নির্গমন রোধে জালিয়াতি
মার্কিন গ্যাস কোম্পানিগুলোর ‘এ গ্রেড’ নিয়ে বড় প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫২
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী অন্যতম প্রধান গ্যাস ‘মিথেন’ নির্গমন কমিয়ে আনার দাবি করছে বিশ্বের বড় বড় জ্বালানি কোম্পানিগুলো। তবে সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা গেছে, লন্ডসভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘এমআইকিউ’ মার্কিন গ্যাস সাইটগুলোকে যে ‘এ গ্রেড’ বা উচ্চমানের সনদ দিচ্ছে, বাস্তবে সেখানে ভয়াবহ মাত্রায় দূষণ ঘটছে।
টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকো সীমান্তের ‘পারমিয়ান বেসিন’ এলাকায় অবস্থিত ১০টি
সনদপ্রাপ্ত গ্যাস সাইট পরিদর্শন করেন গবেষকরা। অপটিক্যাল গ্যাস ইমেজিং ক্যামেরায় ধরা
পড়েছে যে, খালি চোখে দেখা যায় না এমন মিথেনের বিশাল কুণ্ডলী আকাশ বাতাস দূষিত করছে।
সাবেক বায়ুমান পরিদর্শক টিম ডটি এই ফুটেজ পর্যালোচনা করে জানিয়েছেন, বিপি এবং এক্সন
মবিল-এর মতো কোম্পানির সাইটগুলোতে ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রপাতির কারণে অনবরত মিথেন গ্যাস
বাতাসে মিশছে। অথচ এই সাইটগুলোকেই তাদের মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ‘এ’ বা ‘সি’ গ্রেড দিয়েছে।
বর্তমানে মার্কিন গ্যাস উৎপাদনের প্রায়
২০ শতাংশ এমআইকিউ- এর মাধ্যমে শংসাপত্র পায়।
বিপি, এক্সন মবিল এবং ইকিউটি-র মতো কোম্পানিগুলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর মিথেন নীতিমালা
মানার প্রমাণ হিসেবে এই সনদ ব্যবহার করছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে অডিটররা নিজে
থেকে নির্গমন পরিমাপ করেন না; তারা মূলত কোম্পানিগুলোর দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে
রিপোর্ট তৈরি করেন। স্যাটেলাইট ডাটা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে সরকারি হিসাবের চেয়ে মিথেন
নির্গমন চারগুণ বেশি। এবং কোম্পানিগুলো তাদের এই ‘ক্লিন গ্যাস’ সার্টিফিকেট আলাদাভাবে বিক্রিও
করতে পারে, যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘অন্যের হোমওয়ার্ক কপি করার’ সাথে তুলনা করেছেন।
বর্তমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে
জ্বালানি বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় কোম্পানিগুলো এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোর নিয়ম
শিথিল করার জন্য লবিং শুরু করেছে। বর্তমানে ইউরোপের ৬০ শতাংশ এলএনজি সরবরাহ করে যুক্তরাষ্ট্র।
অভিযোগ উঠেছে, এমআইকিউ -এর মতো সংস্থাগুলো কোম্পানিগুলোকে নির্দোষ প্রমাণ করার একটি
‘ঢাল’ হিসেবে কাজ
করছে।
টেক্সাস এএন্ডএম ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয়
বিজ্ঞানী গুনার শ্যাড বলেন, গ্যাস ফ্লেয়ারিং বা পুড়িয়ে ফেলার প্রক্রিয়ায় মিথেন নির্গমন
পুরোপুরি বন্ধ করা প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে কলোরাডো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক ড্যান
জিমারলের মতে, কোম্পানিগুলো প্রকৃত তথ্য না দিয়ে গাণিতিক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে রিপোর্ট
তৈরি করে, যা প্রায়শই ভুল প্রমাণিত হয়। কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও মিথেন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে
তাপ ধরে রাখতে অনেক বেশি শক্তিশালী। জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমাতে মিথেন নির্গমন রোধ
করা অপরিহার্য। কিন্তু কাগজে-কলমে ‘সবুজ’ বা ‘পরিচ্ছন্ন’ গ্যাসের তকমা দিয়ে যদি বাস্তবে
দূষণ চলতেই থাকে, তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

