ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪০
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর মালুকু প্রদেশের তেরনাটে দ্বীপে আঘাত হেনেছে ৭.৪ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ৪৮ মিনিটে সংঘটিত এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। কম্পনের পরপরই ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়া উপকূলে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও কয়েক ঘণ্টা পর তা তুলে নেওয়া হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে,
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তেরনাটে দ্বীপ থেকে প্রায় ১২৭ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে,
সমুদ্রপৃষ্ঠের ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭.৮ রেকর্ড করা হলেও পরে
তা সংশোধন করে ৭.৪ জানানো হয়। ভূমিকম্পের প্রভাবে উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের বিতুং
ও তেরনাটে শহরে ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। আতঙ্কে মানুষজন
ঘরবাড়ি ও স্কুল ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর অন্তত পাঁচটি স্থানে সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর সুলাওয়েসির উত্তর মিনাহাসায় সর্বোচ্চ ০.৭৫ মিটার (প্রায় ২.৫ ফুট) উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়ে। তবে দুই ঘণ্টা পর বড় ধরনের কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই নিশ্চিত করে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর সুলাওয়েসির মিনাহাসা জেলায়
৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। উত্তর সুমাত্রার
একটি স্পোর্টস কমপ্লেক্সের দেয়াল ধসে পড়েছে এবং তেরনাটে শহরের একটি গির্জা ও বেশ কিছু
ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের আপাতত সমুদ্রসৈকত
থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ভূমিকম্পের পর আরও অন্তত ১১টি পরাঘাত বা ‘আফটারশক’ অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটির
মাত্রা ছিল ৫.৫।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় এখানে
প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। গত ৫০ বছরে এই মোলুকা
সাগর এলাকায় সাত মাত্রার উপরে নয়টি ভূমিকম্প হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে
সৃষ্ট এক ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশসহ ১২টি দেশে ২ লাখ ৩০
হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২২ সালেও পশ্চিম জাভার চিয়ানজুরে ৫.৬ মাত্রার
ভূমিকম্পে ৬০২ জন প্রাণ হারান।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

