হরমুজ সংকটের জন্য মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা দায়ী: মাও নিং
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৩
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’তে চলাচলের বিঘ্ন ও অস্থিতিশীলতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, ইরানের ওপর পরিচালিত এই দুই দেশের ‘অবৈধ’ সামরিক অভিযানই বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও নৌ-পরিবহন সংকটের মূল কারণ। বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় কোনো তেল আমদানি
করে না। তাই যেসব দেশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল, তাদের নিজেদেরই এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করতে হবে। এমনকি জ্বালানি সংকটে থাকা দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তেল কেনার
পরামর্শ দিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, সাহস থাকলে তারা যেন হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে নিজেদের
অধিকার ‘ছিনিয়ে নেয়’।
ট্রাম্পের এই উসকানিমূলক বক্তব্যের জবাবেই চীন এই পাল্টা বিবৃতি দিল।
মাও নিং বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্ন
ঘটার মূল কারণ হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ সামরিক অভিযান।"
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ ১,৩৪০
জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর থেকে প্রণালীটি কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরান
কেবল তাদের মিত্র বা ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। চীন জানিয়েছে, সম্প্রতি
তাদের তিনটি জাহাজ সফলভাবে এই পথ অতিক্রম করেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের এই সংঘাত এখন চরম আকার
ধারণ করেছে। ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলায় ইসরায়েল, জর্ডান ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিগুলো
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলমান এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং
আরও অনেকে আহত হয়েছেন। এই যুদ্ধ কেবল সামরিক ক্ষয়ক্ষতিই নয়, বরং বিশ্ব আকাশপথ ও জ্বালানি
বাজারকেও খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু
হু করে বাড়ায় চীনের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির সরকার।
চীনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফার্ম কমিশন দেশের স্বতন্ত্র রিফাইনারি বা শোধনাগারগুলোকে
(যা টি-পট নামে পরিচিত) নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা উৎপাদন কোনোভাবেই গত দুই বছরের গড়ের
নিচে না নামায়।
নির্দেশনা অমান্য করলে ওই শোধনাগারগুলোর
তেল আমদানির কোটা কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সংকট এড়াতে গত
মাস থেকে জ্বালানি তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে চীন, যা এপ্রিল মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিশ্বের দ্বিতীয়
বৃহত্তম অর্থনীতি চীন এখন যেকোনো মূল্যে তাদের নিজস্ব মজুদ ও সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত
রাখতে চাইছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

