হালিমা বেন আলির প্রত্যর্পণ আবেদন ফ্রান্সের আদালতে খারিজ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪৭
হালিমা বেন আলি
তিউনিসিয়ার প্রয়াত ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট জিনে এল আবিদিন বেন আলির কন্যা হালিমা বেন আলিকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ফ্রান্সের একটি আদালত। আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে তিউনিসিয়া সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও প্যারিসের আপিল আদালত বুধবার এই রায় প্রদান করে।
প্যারিস আপিল আদালত তাদের রায়ে জানিয়েছে, তিউনিসিয়ার বর্তমান বিচার ব্যবস্থায় হালিমা বেন আলির জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার কোনো গ্যারান্টি পাওয়া যায়নি। তিউনিসিয়া সরকার ফ্রান্সের পক্ষ থেকে চাওয়া এই সংক্রান্ত নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত তাকে ফেরত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
হালিমার আইনজীবী সামিয়া মাকতুফ এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেন, "তাকে তিউনিসিয়ায়
ফেরত পাঠানো মানে ছিল একটি ‘মৃত্যুদণ্ড’ নিশ্চিত করা। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে এবং আমরা অত্যন্ত স্বস্তি বোধ করছি।"
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্যারিস থেকে দুবাই যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন হালিমা বেন আলি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১৯৮৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তার বাবার দীর্ঘ শাসনামলে তিনি অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন। তিউনিসিয়ার আইনে এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
২০১১ সালের ঐতিহাসিক ‘আরব বসন্ত’ গণঅভ্যুত্থানের মুখে জিনে এল
আবিদিন বেন আলি প্রথম আরব নেতা হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত হন। তিনি সপরিবারে সৌদি আরবে পালিয়ে
যান এবং সেখানেই ২০১৯ সালে ৮৩ বছর বয়সে নির্বাসিত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিউনিসিয়ার
আদালত তার অনুপস্থিতিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেও তিনি তা ভোগ করেননি।
আরব বসন্তের ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তিউনিসিয়ার
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও গণতন্ত্রের মান নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ রয়েছে। কাইস সাঈদের
বর্তমান সরকারের অধীনে তিউনিসিয়ার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। এই প্রেক্ষাপটেই ফ্রান্সের আদালত হালিমা বেন আলিকে
ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাল।
উল্লেখ্য, তিউনিসিয়া সরকার দীর্ঘদিন ধরেই
বেন আলি পরিবারের পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং তাদের বিচারের আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে
যাচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় তিউনিসীয় সরকারের সেই প্রচেষ্টায় একটি বড়
ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের খবর/ এম.আর

