ট্রাম্পের হুমকিতেও পাল্টা লড়াইয়ের ঘোষণা ইরানের
হাসান রাজীব
প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৪৮
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার বৃহস্পতিবার ছিল ৩৪তম দিন। এরই মধ্যে তেহরানে হামলায় প্রায় ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়রের মুখপাত্র আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি। এদিকে, জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দু-তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে কঠোর আঘাতের হুমকি দিয়েছেন। ইরানও ট্রাম্পের নতুন হুমকির জবাব দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ হামলা চালানো হবে। আর মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন।
তেহরানে ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত: রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৩৩ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন শহরের মেয়রের মুখপাত্র আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি।
তিনি বলেন, এসব বাড়িতে ছোটখাটো মেরামত যেমন ‘কাঁচ, দরজা ও জানালা ঠিক করা’ থেকে শুরু করে ‘বড় ধরনের পুনর্নির্মাণ বা সম্পূর্ণ সংস্কার’ করার দরকার হতে পারে।
মুখপাত্র আরও জানান, হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িতে নানা সমস্যা দেখা দেওয়ায় ১ হাজার ৮৬৯টি পরিবার অন্যত্র চলে গেছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ২৪৫টি পরিবারকে ২৩টি আবাসিক কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আব্দুলমোহর মোহাম্মদখানি আরও বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব উদ্যোগ বা আর্থিক সহায়তায় এখন পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি বাড়িতে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
ইরানে আরও কঠোর হামলা- জাতির উদ্দেশে ট্রাম্প: জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর ঘোষণা দেওয়ার বদলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার রাতে মাত্র ২০ মিনিটের এক ভাষণ দিয়েছেন। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ আমরা তাদের (ইরান) ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হানব। আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।’
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে—তেলের দাম বেড়েছে এবং শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
চলমান ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই তাদের সব সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে। এছাড়া যুদ্ধ শেষ হলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে আবার খুলে যাবে বলেও উল্লেখ করেন ট্রাম্প।
এই ভাষণের মাধ্যমে ট্রাম্প যুদ্ধের ‘জয়’ ঘোষণা করে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি একটি অনিশ্চিত ও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দিকে পা বাড়িয়েছেন, যেখানে তার হাতে নেই কোনও বাস্তব সমাধান, আছে কেবল ‘ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ অবাস্তব হুমকি।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে তেল আনার প্রয়োজন নেই। যেসব দেশের মধ্যপ্রাচ্যের তেল প্রয়োজন তাদের নিজেদেরই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে বলেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য যুদ্ধ ‘সফল বিনিয়োগ’ বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিনিরা আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই। তাদের পরমাণু আতঙ্কে নেই। যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হবে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
প্রায় ১৯ মিনিট পর বক্তব্য শেষ করেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের ভাষণের পর বেড়েছে তেলের দাম: ট্রাম্পের ভাষণ বৈশ্বিক তেলবাজারকে আশ্বস্ত করতে পারেনি যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে। ফলে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম।
ভাষণ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলার। ভাষণ চলাকালে দামে ওঠানামা দেখা গেলেও বর্তমানে তা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান এই জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজে হামলার হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীনের: মধ্যপ্রাচ্যে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানো নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর বেইজিং এমন আহ্বান জানাল।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘সামরিক উপায়ে কোনো সমস্যার মৌলিক সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাতের চরম বিস্তার কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করবে না।’ এ সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানান মাও নিং।
হোয়াইট হাউসে বুধবার দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কঠোর হামলার মাধ্যমে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুমকি দেন। এই হামলা অগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চালানো হবে। তাঁর ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিক্রিয়ামূলক বিবৃতি প্রচার করে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের অপমান, লাঞ্ছনার স্থায়ী ও নিশ্চিত অনুশোচনা এবং আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে খাতাম আল-আম্বিয়া বলেছে, ‘আরও বিধ্বংসী, ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকুন।’
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরান দুই দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট চারবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত শনাক্ত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আহ্বান ফরাসি প্রেসিডেনেটর: ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। জাপান সফরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আলোচনা শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বুধবার মাখোঁ এ আহ্বান জানান। টোকিও’র আকাসাকা প্রাসাদে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাখোঁ বলেন, আমরা ‘উভয়ে আন্তর্জাতিক আইন, আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা এবং গণতান্ত্রিক মূলবোধের ওপর বিশ্বাস রাখি।... এই কারণেই... আমরা শান্তি ফিরিয়ে আনা, যুদ্ধবিরতি, স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ চলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি।’
তাকাইচি বলেন, আমরা ‘দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখার গুরুত্বের বিষয়ে একমত হয়েছি।’
তাকাইচি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিবেশ ক্রমশ কঠোর হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতিতে আমি বিশ্বাস করি জাপান ও ফ্রান্সের নেতাদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গভীর হওয়া বিশেষভাবে অর্থবহ।’
আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকির জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ হামলা চালানো হবে।
গত বুধবার এক ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হামলার মাধ্যমে ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠানোর হুমকি দেন। এই হামলা অগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে চালানো হবে। তার ভাষণের কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিক্রিয়ামূলক বিবৃতি প্রচার করে ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আপনাদের অপমান, লাঞ্ছনার স্থায়ী ও নিশ্চিত অনুশোচনা এবং আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে।’ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে উদ্দেশ্য করে খাতাম আল-আম্বিয়া বলেছে, ‘আরও বিধ্বংসী, ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকুন।’
এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের ভাষণের পর ইরান দুই দফায় ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে মোট চারবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত শনাক্ত হয়েছে। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযান শেষের পথে। আমরা খুব শিগগিরই সমস্ত সামরিক লক্ষ্য পূরণ করতে যাচ্ছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ভাষণ এমন সময়ে এলো যখন প্রায় ৩৫টি দেশকে নিয়ে যুক্তরাজ্য একটি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি কীভাবে পুনরায় সচল করা যায় তা নিয়ে এই বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
ইরানের দুই বৃহৎ ইস্পাত কারখানা অচল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় ইরানের প্রধান দুটি বৃহৎ ইস্পাত কারখানা অচল হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—আহভাজ শহরের 'খুজেস্তান স্টিল কোম্পানি' এবং কেন্দ্রীয় ইসফাহান প্রদেশের মোবারকেহ স্টিল কোম্পানি।
মোবারকেহ স্টিল কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তীব্র ও ব্যাপক হামলার কারণে তাদের কারখানার উৎপাদন লাইনগুলো বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।
অন্যদিকে, খুজেস্তান স্টিল কোম্পানির অপারেশন বিভাগের উপ-প্রধান মেহরান পাকবিন জানিয়েছেন, হামলার ফলে কারখানার যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ইরানের সংবাদ মাধ্যম 'মিজান অনলাইন'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেন, আগামী অন্তত ছয় মাসের আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে বলে তারা মনে করছেন না।
ট্রাম্পের ভাষণের তীব্র সমালোচনা চাক শুমারের: ইরান যুদ্ধ নিয়ে জাতির উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া ভাষণে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতারা।
মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ভাষণটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ আমাদের দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নীতিগত ভুলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।’
নিউইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট সিনেটর আরও বলেন, ট্রাম্প লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন। তিনি মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছেন। সাধারণ আমেরিকানদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো উপেক্ষা করছেন।
অন্যদিকে, রিপাবলিকান দলীয় সাউথ ক্যারোলাইনার সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই ভাষণটিকে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তিনি ফক্স নিউজকে বলেন, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ খোলা—চুক্তি করা অথবা আরও বোমা হামলার মুখোমুখি হওয়া।
গ্রাহাম আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন, যা ধীরে ধীরে ইরানের বর্তমান শাসকদের টিকে থাকার সক্ষমতা শেষ করে দেবে।
মার্কিনিদের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি: মার্কিন জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই আগ্রাসন, সম্প্রসারণ, উপনিবেশবাদ বা আধিপত্য বিস্তারের পথ বেছে নেয়নি। ইরান কখনোই আগে কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে যারা ইরানকে আক্রমণ করেছে, তাদের অত্যন্ত দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিহত করেছে।’
চিঠিতে তিনি ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে উপস্থাপনের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার মতে, ইরানকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরা ‘ঐতিহাসিক বাস্তবতার’ সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’তে প্রকাশিত এই চিঠিতে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ‘ইরান তার নাম সত্তা আর পরিচয়ের দিক থেকে মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন ও ধারাবাহিক এক সভ্যতা।’
ইরানকে একটি ‘হুমকি’ হিসেবে চিত্রায়িত করার পেছনে বহিরাগত স্বার্থ কাজ করছে বলে দাবি করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, ‘ইরানকে হুমকি হিসেবে দেখানো ঐতিহাসিক বা দৃশ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এ ধরনের ধারণা মূলত ক্ষমতাধরদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খেয়ালখুশির ফসল। নিজেদের চাপ সৃষ্টিকে বৈধতা দেওয়া, সামরিক আধিপত্য বজায় রাখা, অস্ত্র শিল্প টিকিয়ে রাখা এবং কৌশলগত বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য একটি ‘শত্রু’ তৈরির প্রয়োজন থেকেই এমনটা করা হচ্ছে।’
হামলার প্রথম দিন গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অন্তত ৪০ জন শীর্ষ নেতা নিহত হন। এর জবাবে প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটি ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরেও হামলা হচ্ছে। এতে সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

