Logo

আন্তর্জাতিক

সারা বিশ্বের মাথাব্যথা এখন হরমুজ প্রণালী

Icon

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬

সারা বিশ্বের মাথাব্যথা এখন হরমুজ প্রণালী

সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লেই বিশ্বজুড়ে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে, সেটি হলো হরমুজ প্রণালী। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে থাকা এই জলপথটি শুধু একটি সামুদ্রিক রুট নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই প্রণালী হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে এই পথ সচল রাখা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক স্বার্থের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী?

হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত একটি সরু জলপথ, যা পারস্য উপসাগরকে ওমান সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো থেকে জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলো এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব অর্থনীতি যেহেতু জ্বালানিনির্ভর, তাই এই রুটে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই এর প্রভাব পড়ে জ্বালানি বাজার থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদন পর্যন্ত।

শুধু তেল নয়, ঝুঁকিতে প্রযুক্তি শিল্পও

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে শুধু জ্বালানি সরবরাহই নয়, প্রযুক্তি খাতেও বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।

যদিও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে সরাসরি পণ্য আমদানিতে এই রুট ব্যবহৃত হয় না, তবুও জ্বালানি সংকট তাদের শিল্প উৎপাদনে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

এর প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক প্রযুক্তি সরবরাহ চেইনে- মোবাইল ফোন, টেলিভিশনসহ নানা পণ্যের দাম বাড়তে পারে বা সরবরাহ কমে যেতে পারে।

উত্তেজনার কেন্দ্রে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘদিন ধরেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে, বিশেষ করে যখন পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র এই জলপথ সচল রাখতে নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করেছে। কারণ, এই রুট বন্ধ হয়ে গেলে শুধু পশ্চিমা বিশ্ব নয়, গোটা বৈশ্বিক অর্থনীতিই বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

বৈশ্বিক শক্তিগুলোর নজর

হরমুজ প্রণালী ঘিরে প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী বিশ্বের বড় শক্তিগুলোও। ভারত, চীন ও রাশিয়া- সবাই এই অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।

অন্যদিকে, জ্বালানিনির্ভর ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলো এই রুট সচল রাখতে বড় শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

অর্থনীতির শ্বাসনালী

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী শুধু একটি জলপথ নয়- এটি বৈশ্বিক অর্থনীতির ‘শ্বাসনালী’।

এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে শুধু তেলের জাহাজ থেমে যাবে না, থমকে যেতে পারে বহু দেশের শিল্প উৎপাদন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম।

পরিশেষে বলা যায়, বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যে কোনো উত্তেজনা দ্রুত আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তাই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্ব যতই তীব্র হোক না কেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সচল রাখা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশেরখবর/আরকে

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন