Logo

আন্তর্জাতিক

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৩

৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সম্ভাব্য ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করছে। এই আলোচনা শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন অনলাইন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

যুদ্ধবিরতির শর্তা নিয়ে আলোচনার বিষয়ে জানাশোনা আছে— যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এই খবর দিয়েছে।

তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনটি যাচাই করতে পারেনি।

এদিকে আলোচনা ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার মাঝে পারস্পরিক হামলা থেমে নেই। রবিবার ইস্টার সানডের দিনে লেবাননজুড়ে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। গত ২ মার্চ লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন করে হামলা শুরুর পর থেকে এটি অন্যতম রক্তক্ষয়ী দিন।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কাফরহাতা গ্রামে একটি হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, বৈরুতের জনাহ এলাকায় আরেকটি হামলায় চারজন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন।

আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বলা হয়েছে, বৈরুতের পূর্বে অবস্থিত আইন সাদেহ এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

লেবাননের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা যখন ইস্টার সানডে পালন করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্বে জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আর এর জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে অনেক দেশের জাহাজ না আসতে পারা দায়ী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এ পথটি দিয়ে আসতে পারছে না। 

এর মাঝেই ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য তা চিরতরে বদলে গেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক বিবৃতিতে এ ঘোষণা দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের জন্য ইরানের কর্মকর্তারা যাকে ‘নতুন ব্যবস্থা’ বলে জানিয়েছেন, তা কার্যকর করার লক্ষ্যে তারা এখন সামরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের পার্লামেন্টারি কমিটিতে একটি খসড়া আইন অনুমোদনের কয়েক দিন পর এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। ওই আইনে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রস্তাবনায় যা যা রয়েছে— যাতায়াত শুল্ক ইরানের জাতীয় মুদ্রায় পরিশোধ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। যেসব দেশ ইরানের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে, তাদের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ।

তা ছাড়া ওই পরিকল্পনায় প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্ব, সশস্ত্র বাহিনীর কর্তৃত্ব, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয় এবং ওমানের সঙ্গে আইনি সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন।

ইরান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে রাজি না হলে দেশটি ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্থানীয় সময় রবিবার তিনি এ হুমকি দেন।

এবিসি নিউজকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের প্রতি সুনির্দিষ্ট এক নতুন সময়সীমা বেঁধে দেন। পোস্টে তিনি লেখেন ‘মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!’ (তেহরানের সময় বুধবার মধ্যরাত)।

একই দিন এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে ট্রাম্প বলেন, আমার দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যে ইরান ‘কিছু না করলে’ তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।

ট্রাম্পের এ আলটিমেটাম নিয়ে রাশিয়া ও চীনসহ বিশ্বের অনেক দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন