Logo

আন্তর্জাতিক

তাইওয়ানকে সংঘাতের উৎস হতে দেওয়া উচিত নয়: চেং লি-উন

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪২

তাইওয়ানকে সংঘাতের উৎস হতে দেওয়া উচিত নয়: চেং লি-উন

তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক শেষে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দলের চেয়ারপারসন চেং লি-উন।

এক বিরল ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাইওয়ানের প্রধান বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের (কেএমটি) চেয়ারপারসন চেং লি-উনের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে শি জিনপিং ঘোষণা করেন যে, তাইওয়ান প্রণালীর দুই তীরের মানুষই মূলত চীনা এবং তারা শান্তি প্রত্যাশা করে। গত এক দশকের মধ্যে এই প্রথম তাইওয়ানের কোনো শীর্ষ নেতার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের এমন সরাসরি যোগাযোগ ঘটল।

তবে এই সফর তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দ্বীপরাষ্ট্রটির ক্ষমতাসীন দল ও সমালোচকরা চেং লি-উনের বিরুদ্ধে চীনের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। অনেকে চীনকে তাইওয়ানের নিরাপত্তার জন্য প্রধান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন।

শান্তির বার্তা বনাম রাজনৈতিক বিভাজন বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে চেং লি-উন জানান, ২০২৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে যদি কেএমটি ক্ষমতায় আসে, তবে তিনি শি জিনপিংকে তাইওয়ান সফরের আমন্ত্রণ জানাতে চান। নিজেকে চীনা হিসেবে পরিচয় দেওয়াকে একটি অত্যন্ত স্বাভাবিক বিষয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। যদিও তাইওয়ানের বর্তমান জনমত এর বিপরীত; সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ নিজেদের মূলত তাইওয়ানিজ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

চেং লি-উন বলেন, "তাইওয়ানকে আর সম্ভাব্য সংঘাতের উৎস হতে দেওয়া উচিত নয়। একে দুই তীরের চীনা জনগণের মাধ্যমে শান্তি রক্ষার প্রতীকে পরিণত করা উচিত।"

প্রতিরক্ষা বাজেট ও অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন চেং-এর এই সফর এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন তাইওয়ানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে অচলাবস্থা চলছে। প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) এই বাজেট পাস করতে চাইলেও কেএমটি তা আটকে দিয়েছে। কেএমটির দাবি, বাজেটটি অত্যন্ত অস্পষ্ট। পরিবর্তে তারা ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি ছোট বাজেটের প্রস্তাব দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত ইউরেশিয়া গ্রুপের চীন বিষয়ক পরিচালক আমান্ডা শিয়াও মনে করেন, এই বৈঠকের মাধ্যমে বেইজিং মূলত তাইওয়ানের বর্তমান প্রশাসনের প্রতিরক্ষা নীতির ওপর অনাস্থা তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, "বেইজিং চায় তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে, যাতে তারা ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে।"

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, চীনের লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এটি দেখানো যে, তাইওয়ানের একটি বড় অংশ বেইজিংয়ের সুরের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছে। এটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রে কাছে তাইওয়ানের অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, আগামী মাসে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে এ বৈঠকটি এপ্রিলে হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গিয়েছিল।

১৯৪৯ সালে গৃহযুদ্ধে কমিউনিস্ট পার্টির কাছে পরাজিত হয়ে কেএমটি তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। এরপর থেকেই তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে, যদিও চীন একে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন ডিপিপি সরকারকে বেইজিং বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্ক চরম উত্তপ্ত রয়েছে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন