হাওয়াইয়ে কিলাউয়েয়ার ভয়াবহ অগ্নুৎপাতের ফলে ২০০ মিটার উঁচুতে লাভা উঠতে দেখা গেছে।
বিশ্বের অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হাওয়াইয়ের 'কিলাউয়েয়া' থেকে নতুন করে শক্তিশালী অগ্নুৎপাত শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ১১টার পর থেকে আগ্নেয়গিরিটির মুখ দিয়ে লাভা উদগিরণ শুরু হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, উত্তপ্ত লাভা প্রায় ২০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় আছড়ে পড়ছে। কিলাউয়েয়া আগ্নেয়গিরিটি হাওয়াইয়ের 'বিগ আইল্যান্ড'-এ অবস্থিত। অগ্নুৎপাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার খাতিরে 'হাওয়াই ভলকানোস ন্যাশনাল পার্ক' সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস দর্শকদের জন্য
বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই এবং 'টেফ্রা' (কাঁচের মতো ক্ষুদ্র
আগ্নেয় অংশ) থেকে বাঁচতে পর্যটকদের লম্বা হাতার পোশাক, প্যান্ট এবং চশমা ব্যবহারের
পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দক্ষিণ-পূর্ব বিগ আইল্যান্ডে ছাই পড়ার আশঙ্কায় মধ্যরাত
পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর।
ইউএসজিএস-এর তথ্যমতে, এবারের অগ্নুৎপাতে ইতিমধ্যে প্রায় ৩৬ লাখ কিউবিক ইয়ার্ড লাভা নির্গত হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, অগ্নুৎপাতের ফলে ফুটবল আকৃতির বড় বড় পাথর বা ‘টেফ্রা’ ওপর থেকে কয়েক মাইল দূর পর্যন্ত ছিটকে পড়তে পারে। এর ক্ষুদ্র কণাগুলো মানুষের চোখ ও শ্বাসতন্ত্রে মারাত্মক জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে।
১৯৫২ সাল থেকে এ পর্যন্ত কিলাউয়েয়া আগ্নেয়গিরিটি
কয়েক ডজন বার উদগিরিত হয়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে কিলাউয়েয়ার অগ্নুৎপাত ভয়াবহ বিপর্যয়
ডেকে এনেছিল। সে সময় লাভার স্রোতে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং হাজার হাজার মানুষ
বাস্তুচ্যুত হয়।
প্রতি বছর এই ন্যাশনাল পার্কে অগ্নুৎপাত
দেখতে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি পর্যটকের সমাগম ঘটে। তবে ভূমিধস এবং মাটির নিচে উত্তপ্ত
গলিত লাভার উপস্থিতির কারণে ২০০৭ সাল থেকেই আগ্নেয়গিরির আশেপাশের বেশ কিছু এলাকা জনসাধারণের
জন্য নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিশেষজ্ঞ দল অগ্নুৎপাতের গতিবিধি নিবিড়ভাবে
পর্যবেক্ষণ করছে যাতে লোকালয়ে কোনো বিপদের আশঙ্কা তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

