ইউক্রেন যুদ্ধ
জেলেনস্কির যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সাড়া পুতিনের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৬
দীর্ঘ চার বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এই প্রথমবারের মতো ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। আসন্ন অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে অবশেষে সায় দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
শনিবার দুপুর থেকে টানা ৩২ ঘণ্টার জন্য
এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। পুতিনের কৌশল ও জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া যুদ্ধ শুরুর ১৫০৭তম
দিনে এসে এই সমঝোতা হলেও ক্রেমলিন বিষয়টিকে তাদের নিজস্ব উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করার
চেষ্টা করছে। তবে ইউক্রেনীয় পক্ষ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি দীর্ঘ দিন ধরেই এই
প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
গতকাল শুক্রবার ভোরে এক প্রতিক্রিয়ায় জেলেনস্কি
বলেন, "ইউক্রেন বারবার বলেছে আমরা দ্বিপাক্ষিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আমরা এই
বছরের ইস্টার ছুটির সময় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলাম এবং সেই অনুযায়ী কাজ করব। মানুষের
একটি হুমকিহীন ইস্টার প্রয়োজন এবং শান্তির দিকে একটি বাস্তব পদক্ষেপ দরকার। রাশিয়ার
কাছে সুযোগ রয়েছে ইস্টারের পরেও যেন তারা আর আক্রমণে ফিরে না যায়।"
অন্যদিকে ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে,
"আমরা ধরে নিচ্ছি ইউক্রেনীয় পক্ষ রাশিয়ান ফেডারেশনের উদাহরণ অনুসরণ করবে। এই
সময়ের মধ্যে সব ফ্রন্টে শত্রুতা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।" তবে রাশিয়া
তাদের বিবৃতিতে একটি বিকল্প পথও খোলা রেখেছে। তারা জানিয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো ধরনের
‘উস্কানি’ বা ‘আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড’ মোকাবিলায় রুশ
সেনারা প্রস্তুত থাকবে।
পূর্ববর্তী পরিস্থিতির ভিন্নতা ২০২২ সালের
ফেব্রুয়ারিতে পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর পর এর আগে কেবল স্থানীয় পর্যায়ে বন্দি বিনিময় বা
বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য সাময়িক বিরতি দেখা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের মার্চে
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে একটি সীমিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ ঘোষণা করা হলেও
তা খুব একটা কার্যকর হয়নি। সে হিসেবে এবারের ৩২ ঘণ্টার এই যুদ্ধবিরতিকে যুদ্ধের ইতিহাসে
প্রথম আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ও নেপথ্য কারণ বিশ্লেষকরা
বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ব্যস্ত থাকায় এই যুদ্ধবিরতির
আলোচনায় ওয়াশিংটনের সরাসরি ভূমিকা ছিল নগণ্য। তবে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার তেল
রপ্তানি শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড
বিপর্যস্ত হওয়ার ফলে উভয় পক্ষই একটি বিরতির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছিল। রয়টার্সের তথ্যমতে,
পুতিনের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিভ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, যা পর্দার
আড়ালের কোনো আলোচনার ইঙ্গিত হতে পারে।
সাগরের তলদেশে উত্তেজনা যুদ্ধবিরতির এই
আবহের মধ্যেই ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ
করেছেন, রাশিয়ার সাবমেরিনগুলো উত্তর সাগরে সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট
কেবল এবং পাইপলাইনের চারপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে। ব্রিটেন ও নরওয়ে তাদের নৌবাহিনী
পাঠিয়ে এই অবকাঠামোগুলো পাহারা দিচ্ছে।
হিলি সরাসরি পুতিনকে উদ্দেশ্য করে বলেন,
"আমাদের কেবলের ওপর আপনাদের কর্মকাণ্ড আমরা দেখছি। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা
করা হলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।" তবে লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এই অভিযোগকে
'অবিশ্বাস্য ও ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

