Logo

আন্তর্জাতিক

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির বৈঠক শনিবার

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৫

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির বৈঠক শনিবার

ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বহুমুখী হুমকির মুখে পড়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল লেবাননজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইরানও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনা করেছে। এদিকে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল এখনও স্থবির হয়ে আছে। এরই মধ্যে বহুল আলোচিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক আগামীকাল শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনাকে গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি।

মাত্র ৪০ দিনের যুদ্ধেই দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে ইরানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। তারা দেশটির বেসামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনেক অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। শিল্প কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং ব্রিজে হামলার কারণে অনেক ইরানি চাকরি হারিয়েছেন। এদিকে, যুদ্ধ-উত্তেজনার স্থায়ী অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে পাকিস্তান। আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সম্ভাব্য এই আলোচনার জন্য দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের মাধমে পুরো ইসলামাবাদ শহরকে নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। 

লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা ইরানের সঙ্গে আলোচনাকে যাতে বাধাগ্রস্ত না করে, সেজন্য জোর তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হামলার তীব্রতা কমানোর অনুরোধ করেছেন। কারণ, এসব হামলা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

আলোচনার জন্য পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধি দল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলমাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল। সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে। এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। 

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। তবে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হবে কি না এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর মূল কারণ হলো লেবানন। গত বুধবার  ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। ওই যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানান, যুদ্ধবিরতির আওতায় থাকবে লেবানন। কিন্তু দখলদারদের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর জানান লেবানন এতে থাকবে না। এরপর দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালায় ইসরায়েলি সেনারা। এসব হামলায় দুইশরও বেশি মানুষ নিহত ও প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ আহত হন। 

ইরান এখন শর্ত দিচ্ছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় তাহলে লেবাননে আগে হামলা বন্ধ করতে হবে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের এ শর্ত মানেনি ইসরায়েল। এ নিয়েই মূলত এখন দ্বন্দ্ব চলছে। এরমধ্যে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান জানিয়েছে, ইরান মার্কিনিদের সঙ্গে ইসলামাবাদের সংলাপ স্থগিত করেছে। কানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় তেহরান।

উপসাগরীয় দেশগুলোকে সঠিক পক্ষে থাকার আহ্বান খামেনির: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর উদ্দেশ্যে এক্সে পোস্ট করার পর এক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইরান তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশীদের এই বার্তা দিচ্ছে যে এই অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ। 

বার্তা সংস্থা সিএনএনের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানান বাহরাইনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্য নীতি বিষয়ক সিনিয়র ফেলো হাসান আলহাসান।

খামেনির ওই পোস্টে বলা হয়, 'ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিবেশীদের বলছি, আপনারা এক অলৌকিক ঘটনা দেখছেন।' 

আরও বলা হয়, 'তাই বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করুন, পরিস্থিতি সঠিকভাবে অনুধাবন করুন, সঠিক পক্ষে অবস্থান নিন এবং ‘শয়তানদের’ মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে সতর্ক থাকুন।'

ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত চাপের মুখেও তেহরানের টিকে থাকাকেই এখানে 'অলৌকিক' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। 

আলহাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একের পর এক হামলা সামলে নিয়ে ইরান এখন নিজেকে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে দেখতে পাচ্ছে।

তিনি সিএনএনকে বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আক্রমণ প্রতিহত করা, ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার পর তেহরান এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা এই অঞ্চলে আরও প্রভাবশালী ও নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা পালন করতে পারবে।'

খামেনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, ইরান তার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এখন একটি 'যথাযথ সাড়া' পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তারা তাদের 'ভ্রাতৃত্ব এবং সদিচ্ছা' প্রদর্শন করতে পারে। 

ইরানে ক্ষয়ক্ষতি প্রায় ১৮ লক্ষ কোটি টাকা: সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া গতকাল ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের বরাতে জানিয়েছে, গত ৪০ দিনে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এতে ইরানের ১৪০ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। যা বাংলাদেশি অর্থে ১৮ লক্ষ কোটি টাকার সমান।

ইরানের রেডক্রস সোসাইটির প্রধান পিরহোসেন কোলিভান্ড জানিয়েছেন, যুদ্ধে ইরানের ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৩০টি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। যারমধ্যে আছে ১ লাখ আবাসিক বাড়ি। যেগুলোর কিছু আংশিক এবং কিছু পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।

এছাড়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে ২৩ হাজার ৫০০ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে। এর পাশাপাশি হামলা হয়েছে ৩৩৯টি হাসপাতাল, ফার্মেসি, ল্যাবরেটরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং জরুরি ইউনিটেও। হামলায় এগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টি বিশ্ববিদ্যালয়, ৮৫৭টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সঙ্গে রেডক্রসের ২০টি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়ে গেছে।

এগুলোর পাশাপাশি ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে। যারমধ্যে আছে পাঁচটি জ্বালানি সংরক্ষণাগার, বিমানবন্দর এবং বেসামরিক বিমান। বেসামরিকের পাশাপাশি ইরানের সামরিক অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিনি ও ইসরায়েলিদের হামলায় ইরানের চারটি প্রধান ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র— খোজির, পারচিন, হাকিমিয়েহ এবং শারাউদ— এগুলোর পাশাপাশি ২৯টি মিসাইল উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় বাংলাদেশি নারী নিহত: লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় বাংলাদেশি এক নারী প্রবাসী নিহত হয়েছেন। নিহত প্রবাসীর নাম দিপালী। লেবাননের রাজধানী বৈরুতের হামরা এলাকায় বুধবার (৮ এপ্রিল) কফিলের পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে এ হামলার শিকার হন তিনি।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। নিহত দিপালী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চর হাজীগঞ্জ এলাকায়। তার বাবা নাম শেখ মোফাজ্জল ও মায়ের নাম রোজিনা খাতুন।

লেবাননে বাংলাদেশ দূতাবাস মরহুমার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে দূতাবাস প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই হামলায় দিপালীর কফিল ও তার পরিবারের একাধিক সদস্যও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানা গেলেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস।

এদিকে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়া নিয়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে অধিকার রক্ষায় অটল- মোজতবা খামেনি: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না ইরান। তবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় তারা দৃঢ় থাকবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বৃহস্পতিবার পাঠ করা এক লিখিত বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনে তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর পাঠ করা ওই বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ চাইনি এবং এখনও চাই না।’

তিনি বলেন, ‘তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে সরে দাঁড়াব না। এ ক্ষেত্রে আমরা সমগ্র ‘প্রতিরোধ জোটকে’ একসঙ্গে বিবেচনা করি।’ তার এই মন্তব্যকে লেবাননের দিকে ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের মিত্র হিজবুল্লাহর সংঘাত চলছে।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন।

মোজতবা খামেনি তার বার্তায় বলেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও জনগণের আন্দোলন থামানো উচিত নয়। তিনি বলেন, ‘জনগণের রাস্তায় নামা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। জনসমাবেশে আপনাদের কণ্ঠস্বর আলোচনার ফলাফলে প্রভাব ফেলবে।’

হরমুজে নিয়ে ইরানকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা: হরমুজ প্রণালি চলচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় ইস্যুতে ইরানকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খুব শিগগিরই বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ প্রসঙ্গে ৩টি পোস্ট দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রথম তিনি বলেছেন, “খবর পাওয়া যাচ্ছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান টোল আদায় করছে। তারা যেন এটা না করে এবং যদি করেও থাকে— যেন এখনই তা বন্ধ করে।”

দ্বিতীয় পোস্টে তিনি বলেছেন, “হরমুজে প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোর সঙ্গে ইরান যা করছে, তা খুবই বাজে এবং অসম্মানজনক। ইরানের সঙ্গে আমাদের (যুদ্ধবিরতি) চুক্তিতে এ ব্যাপারটি ছিল না।”

তৃতীয় পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “ইরান সহযোগিতা করুক আর না-ই করুক, হরমুজ প্রণালিতে খুব শিগগিরই তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হবে।”

উল্লেখ্য, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)- এর বরাত দিয়ে গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালি স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে  জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ পার হবে তাদের আগে থেকেই টোল পরিশোধ করতে হবে।  ক্রিপ্টো কারেন্সি বা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে এই টোল পরিশোধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির চুক্তি চলা পর্যন্ত এভাবে টোল আদায় হবে।

তেলবাহী জাহাজগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল আদায় করা হবে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছেন ইরানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০ কোটি ডলারের ড্রোন নিখোঁজ: এমকিউ–৪সি ধরনের একটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নজরদারি ড্রোন হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ হয়েছে। গতকালের এ ঘটনায় ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি শেষে ইতালির নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলায় ফেরার পথে ছিল। উড্ডয়ন চলাকালে এটি ‘কোড ৭৭০০’—সাধারণ জরুরি অবস্থার সংকেত—পাঠায় এবং ধীরে ধীরে উচ্চতা হারাতে শুরু করে। এ সময় এটি ইরানের আকাশসীমার দিকেও কিছুটা অগ্রসর হয়েছিল বলে জানা গেছে।

চালকবিহীন এই ড্রোনটি নিখোঁজ হওয়ার আগে দ্রুত উচ্চতা হারাচ্ছিল বলে শনাক্ত করা হয়। এরপর থেকেই এর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই দিন পর। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার কথা ছিল।

উল্লেখ্য, এমকিউ–৪সি ট্রাইটন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল নজরদারি ড্রোন, যার মূল্য ২০ কোটি ডলারের বেশি। এটি দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্র অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম এবং প্রায়ই পি-৮এ পসিডন টহল বিমানের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তত্ত্বাবধানে উপসাগরীয় অঞ্চলে এসব ড্রোন মোতায়েন রয়েছে। 

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে পাকিস্তান-ফ্রান্সের উদ্বেগ: লেবাননে ‘গুরুতর যুদ্ধবিরতি নিয়ম লঙ্ঘন’ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন পাকিস্তান ও ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রকাশিত বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে ফ্রান্সের জ্যঁ-নোয়েল বারো ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের মধ্যে ফোনালাপে বারো বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক পথ তৈরির ক্ষেত্রে ফ্রান্স পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই নেতা লেবাননে সংঘটিত গুরুতর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন ও তা মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।’

এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলতি সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে হওয়ার কথা থাকা শান্তি আলোচনার আগে এলো। তবে আলোচনা আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন ‘অকার্যকর’: ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে তেহরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক একদল বিশেষজ্ঞের মতে, এসব ঘাঁটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে, এগুলো এখন উপকারের চেয়ে মার্কিন বাহিনীর জন্য উল্টো ঝুঁকি তৈরি করছে।

গত মাসে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে প্রথম জানানো হয়েছিল যে, ইরানের হামলার পর ঘাঁটিগুলো এখন প্রায় ‘বসবাসের অনুপযোগী’ হয়ে পড়েছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির এ ব্যাপকতার কথা স্বীকার করেনি।

ওয়াশিংটনের ‘আরব সেন্টার’-এর বার্ষিক সম্মেলনে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চ বলেন, ‘গত এক মাস ধরে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের অবকাঠামোগুলো অকেজো করে দিয়েছে। অথচ এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার সঠিক চিত্র সামনে আসছে না।’

বাহরাইন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমান—এই ছয়টি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রবেশাধিকার পেন্টাগন ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। এমনকি গত মাসে এসব দেশের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে হামলার জন্য ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দিতেই এ গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

মার্ক লিঞ্চ আরও বলেন, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ৯ হাজার সেনার আবাসস্থল এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই অরক্ষিত যে, সেখানে নৌবহরকে আবার ফিরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

এ বিশেষজ্ঞের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ছিল, তা এখন কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে।

হরমুজে জাহাজ চলাচল ব্যাহত, তেলের দাম বৃদ্ধি: এশীয় বাজারে শুক্রবার শুরুর দিকের লেনদেনে তেলের দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিতভাবে জাহাজ চলাচল এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলার মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ এই দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

গ্রিনিচ মান সময় শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজার সূচক অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ০.৮৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯৬.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরান 'খুবই খারাপ কাজ' করছে। একই সঙ্গে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ব্যবহারের জন্য জাহাজের কাছ থেকে ফি বা টোল আদায় না করার বিষয়েও তেহরানকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সি গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সৌদি আরবের তেল উৎপাদন কেন্দ্রে এর আগে হওয়া হামলার প্রভাবে দেশটির দৈনিক উৎপাদন প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া দেশটির 'ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন'-এর মাধ্যমে তেলের সরবরাহ দৈনিক আরও ৭ লাখ ব্যারেল কমেছে। এটি বিশ্ববাজারে সরবরাহের ঘাটতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।

আলোচনার আগে ইসলামাবাদে ছুটি: যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে আসন্ন আলোচনার আগে বৃহস্পতিবার থেকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দিনের স্থানীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। ইসলামাবাদ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার রাতে প্রকাশিত এক নোটিশে এই ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে নোটিশে ছুটির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। সাধারণত উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক কর্মসূচির আগে নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসলামাবাদে প্রায়ই এ ধরনের ছুটি বা বিধিনিষেধ জারি করা হয়।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন