Logo

আন্তর্জাতিক

হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা, শান্ত থাকার আহ্বান চীনের

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৭

হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা, শান্ত থাকার আহ্বান চীনের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি অবরোধের হুমকি দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রোববার রাতে সামাজিকমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ১৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে আসা-যাওয়া করা জাহাজগুলো অবরোধ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে অবরোধে আরোপের হুমকি দেওয়ার পর সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের ও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে চীন।

গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, ‘ইরানি বন্দরগুলো ও উপকূলীয় এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে থাকা ও সেখান থেকে বের হতে থাকা সব সব দেশের সব ধরনের সামুদ্রিক জলযানের ক্ষেত্রে এ অবরোধ কার্যকর হবে।’

গতকাল সোমবার এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন মার্কিন অবরোধে হুমকি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূণর্ জলপথকে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও বাধাহীন রাখা বিশ্ব সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষা করে। চীন আশা করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ব্যবস্থা মেনে চলবে, বিরোধ নিষ্পত্তিতে রাজনৈতিক ও কূটনতিক উপায়ের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে আর শত্রুতা ফের শুরু করা এড়াবে।

গুও আরও বলেন, এই সমস্যা সমাধানে ‘একটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে’ চীন প্রস্তুত হয়ে আছে। পাকিস্তানের রাজধানীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে আলোচনা শুরু হয়েছে তা উত্তেজনা প্রশমণে সহায়ক বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। চীন ইরানে অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা করছে, প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাখ্যান করে সেগুলোকে ‘ভিত্তিহীন অপবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মার্চে চীন ও পাকিস্তান ইরান যুদ্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে শান্তি আলোচনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছিল।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপ লিও চতুর্দশের তীব্র সমালোচনা করেছেন। জবাবে পোপ বলেছেন, তিনি শান্তি স্থাপনকারী, কোনো রাজনীতিবিদ নন। 

আলজেরিয়া সফরের আগে সাংবাদিকদের পোপ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে আমার কোনো ভয় নেই, কিংবা সুসমাচারের বাণী উচ্চস্বরে প্রচার করতেও আমার কোনো ভয় নেই, যা করার জন্যই আমি এখানে এসেছি বলে আমি বিশ্বাস করি, যা করার জন্যই গির্জা এখানে রয়েছে।

ইরানের সব বন্দর অবরোধ মার্কিন বাহিনীর: মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, গতকাল সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা ‘বাধা সৃষ্টি করবে না’ বলে জানিয়েছে।

এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান হুমকির মুখে ‘নতি স্বীকার করবে না’।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে, ইরানি বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বের হওয়ার ট্রাফিক অবরোধ সোমবার স্থানীয় সময় ১০টা, জিএমটি সময় দুপুর ২টা, যা বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা, থেকে শুরু হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের ‘ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতার’ জবাবে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরো সতর্ক করেছেন যে, মার্কিন নৌবাহিনী তাদের ওপর হামলাকারী যেকোনো ইরানিকে ‘উড়িয়ে দেবে’ এবং ইরানকে ট্রানজিট টোল প্রদানকারী যেকোনো জাহাজকে আটক করবে।

এই উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে। পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ইরানি বন্দর অবরোধে যোগ দেবে না যুক্তরাজ্য: হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বন্দর অবরোধ কার্যকর করতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী পদক্ষেপে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসির খবরে বলা হয়, ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ও সেনা ইরানি বন্দর অবরোধে ব্যবহৃত হবে না। তবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাজ্যের মাইন অপসারণকারী ইউনিটের তৎপরতা ও ড্রোনবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেন, তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার নীতিকে সমর্থন করে যাবেন, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিসহ যুক্তরাজ্যের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্র স্বৈরতন্ত্র নীতি বদলালেই চুক্তির পথ খুলবে: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথ এখনো বন্ধ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার মতে, ওয়াশিংটন যদি ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।

গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, “মার্কিন সরকার যদি তাদের বর্তমান অবস্থান পরিবর্তন করে এবং ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা সম্ভব।” তিনি আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানান।

ইরানে ফের হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের: শান্তি আলোচনায় সৃষ্ট অচলাবস্থা কাটাতে ইরানের ওপর আবারও সীমিত আকারে সামরিক হামলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অবরোধের পাশাপাশি এই হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার গতি ফেরাতে এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে এই সীমিত সামরিক পদক্ষেপকে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এর আগে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হলেও, এখন সেই চাপের মাত্রা আরও বাড়াতে সরাসরি সামরিক হামলার পথ বেছে নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন নৌ-অবরোধ ব্যর্থ হতে বাধ্য: ইরানের এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সদস্য মোহসেন রেজায়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত নৌ-অবরোধকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই পরিকল্পনা 'ব্যর্থ হতে বাধ্য'।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-এর প্রতিবেদনে রেজায়িকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, 'হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ক্ষেত্রে যেমন আমেরিকা ইরানের কাছে ঐতিহাসিক পরাজয় বরণ করেছে, তেমনি এই নৌ-অবরোধের ক্ষেত্রেও তারা পরাজিত হতে চলেছে।'

রেজায়ি আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী 'আমেরিকাকে এই কাজ (অবরোধ) করতে দেবে না' এবং একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ মোকাবিলায় ইরানের কাছে 'অব্যবহৃত শক্তিশালী কৌশল' রয়েছে।

তিনি যোগ করেন, 'ইরান এমন কোনো জায়গা নয় যে যাকে স্রেফ কিছু টুইট বা কাল্পনিক পরিকল্পনা দিয়ে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা যাবে।' 

একটি ফোনেই ভেস্তে যায় শান্তি আলোচনা: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এর পেছনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর একটি ফোন কলকে দায়ী করেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠকের মাঝপথে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে করা নেতানিয়াহুর ওই একটি ফোন কলই সম্ভাব্য সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। 

আরাঘচির মতে, ওই কলটির পর আলোচনার মোড় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বিপক্ষীয় বিষয় থেকে ঘুরে গিয়ে সম্পূর্ণভাবে ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে চলে যায়। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন যে, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে বসে এমন কিছু অর্জন করতে চেয়েছিল যা তারা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরান অত্যন্ত সদিচ্ছা নিয়ে অংশ নিয়েছিল বলে দাবি করেছেন আরাঘচি। তবে আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর আগেই জেডি ভ্যান্সের সংবাদ সম্মেলন করাকে তিনি ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

২১ ঘণ্টার বৈঠকে ট্রাম্পকে ১২ বার ফোন ভ্যান্সের: ইসলামাবাদে চলা ২১ ঘণ্টার বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অন্তত ডজনখানেকবার ফোন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এসময় সিদ্ধান্ত নিতে আরও কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রতিনিধি দল। তবে এসব আলোচনায় ফল হয়নি। 

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত তথা ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিরতির আলোচনাও থেমেছে সিদ্ধান্ত ছাড়াই। গত শনিবার প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা এই শান্তি আলোচনা ফলহীনভাবে শেষ হয় বলে জানান ভ্যান্স। 

এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলাম। ঠিক কতবার কথা হয়েছে জানি না—গত ২১ ঘণ্টায় হয়তো অর্ধডজন বা এক ডজনবার।’

ভ্যান্স আরও জানান, প্রতিনিধি দলটি অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা দলের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় যোগাযোগে ছিলাম, কারণ আমরা সৎভাবে আলোচনা করছিলাম। আমরা এখান থেকে একটি চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব নিয়ে ফিরছি।’

লেবাননে ইসরায়েলের ফসফরাস শেল নিক্ষেপ: লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত আছে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থার (এনএনএ) খবরে এই তথ্য জানানো হয়।

এনএনএর খবরে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। পাশাপাশি তারা কামান দিয়ে গোলা ছুড়েছে। ফসফরাস শেল নিক্ষেপ করেছে। ড্রোন দিয়েও হামলা চালিয়েছে। এদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

হিজবুল্লাহর দাবি, ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবানন ও দেশটির জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই হামলা অব্যাহত থাকবে।

যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অন্তর্ভুক্তির দাবি ব্রিটেন-ফ্রান্সের: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ গতকাল এক ফোনালাপে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করেছেন। দুই নেতাই একমত হয়েছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অবশ্যই লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই নেতা দ্রুত উত্তেজনা কমানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একটি ‘স্থায়ী যুদ্ধবিরতির’ প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। দুই রাষ্ট্রপ্রধানই মনে করেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে লেবাননকে এ চুক্তির বাইরে রাখার সুযোগ নেই।

বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেন। এ সময় সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক জোট গঠনের অঙ্গীকার করেন তারা।

শেয়ারবাজারে দরপতন, তেলের দাম বৃদ্ধি: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের নির্দেশের পর এশীয় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

জাপানের প্রধান শেয়ার বাজার সূচক নিক্কেই ২২৫ গতকাল ০.৮৪ শতাংশ এবং টপিক্স ০.৪২ শতাংশ কমেছে। একইভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

গত রোববার দুই দেশের মধ্যে কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দাম ৮.৫৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪.৮৪ ডলার এবং ব্রেন্ট ক্রুড ৮.৬১ শতাংশ বেড়ে ১০৩.৩৮ ডলারে পৌঁছেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে অস্থিরতা চলছে। বিশেষ করে ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন