দ্বিতীয় দফায় সংলাপে বসবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১০
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়া শেষ হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। খুব দ্রুতই তারা দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (১৬ এপ্রিলের) মধ্যেই দুই পক্ষ পুনরায় আলোচনায় বসতে পারে।
ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে চাইছে দেশ দুটি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে দুই দেশই ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে।
ইসলামাবাদ বৈঠকের পর থেকে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একজন কূটনীতিক ও আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনা বন্ধ থাকলেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষই একে অপরের শর্ত ও প্রস্তাবনাগুলো খতিয়ে দেখছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী এবং তারা যোগাযোগ করেছে। মার্কিন প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার লক্ষ্যে বর্তমানে এক ধরনের গতিশীলতা কাজ করছে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সরাসরি আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আবারো ইসলামাবাদের নাম আলোচনায় আসছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতেও এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও আলোচনার স্থান ও সময় এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি, তবু দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হয়ে যাওয়ার আগেই একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়াকে উভয় পক্ষই এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই আলোচনা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে গত দেড় মাস ধরে চলা ভয়াবহ সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট থাকলেও পাকিস্তান ও অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো বৈরিতা কমিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফার একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি প্রধান ছিল।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়ে অটল রয়েছে। দ্বিতীয় দফার এই সম্ভাব্য বৈঠকটি যদি সত্যিই বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা হবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির একটি বড় ধরনের মোড় পরিবর্তন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর আগ্রহে এই পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছে।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই যুগ ধরে দেশটির সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছে যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে সংলাপ চলে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয় সেই সংলাপ।
তার পরের দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই সময়ে ইরানে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েলও।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায়।
কূটনৈতিক পন্থায় উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুদ্ধের ৩৯তম দিন, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তারই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সংলাপে বসেছিলেন দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিরা। কিন্তু ২১ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই শেষ হয়েছে সেই বৈঠক।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

