Logo

আন্তর্জাতিক

আল জাজিরার বিশ্লেষণ

হরমুজ প্রণালীতে চীন হতে পারে ইরানের 'ত্রাণকর্তা'

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১৮

হরমুজ প্রণালীতে চীন হতে পারে ইরানের 'ত্রাণকর্তা'

হরমুজ প্রণালী

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে ইরান উপকূলে মার্কিন নৌ-অবরোধ। তেহরানকে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিতে বাধ্য করতেই এই 'অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ' নীতি গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই অবরোধ ইরানকে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তেহরানের হাতে কি পালানোর কোনো পথ খোলা আছে?

যুদ্ধের শুরুতে ইরান নিজেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। এর ফলে গত এক মাসে দেশটি তেল রপ্তানি করে প্রায় ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার আয় করেছে, যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। কিন্তু মার্কিন নৌ-অবরোধ কার্যকর হওয়ায় ইরানের তেল রপ্তানি এখন সরাসরি বাধার মুখে।

তথ্য অনুযায়ী, সাগরে ভাসমান ট্যাঙ্কারগুলোতে ইরানের প্রায় ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ব্যারেল তেল আটকা পড়ে আছে, যার ৯৭ শতাংশের গন্তব্য ছিল চীন। অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এই বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রি করা ইরানের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তেল ছাড়াও ইরান রাসায়নিক পণ্য, প্লাস্টিক এবং কৃষি পণ্য রপ্তানি করে চীন ও ভারতে। অন্যদিকে খাদ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানি করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্ক থেকে। নৌ-অবরোধের ফলে এই আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে ইরানে নিত্যপণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জলপথ অবরুদ্ধ হলেও ইরানের হাতে কিছু বিকল্প পথ রয়েছে এর মধ্যে

রেলপথ (চীন-ইরান সরাসরি সংযোগ): কাজাখস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের মধ্য দিয়ে ইরানের সাথে চীনের সরাসরি মালবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে সমুদ্রপথ এড়িয়ে চীন থেকে পণ্য আনা-নেওয়া সম্ভব। তবে এই পথে বিশাল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা অত্যন্ত কঠিন ও ব্যয়বহুল।

'গোস্ট শিপ' বা ছায়া জাহাজ: ইরান দীর্ঘদিন ধরেই কৃত্রিম উপায়ে তাদের জাহাজের অবস্থান গোপন করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল সরবরাহ করে আসছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনীর সরাসরি অবরোধের মুখে এই 'ডার্ক শিপ'গুলো কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক গবেষক ফ্রেডেরিক স্নাইডার মনে করেন, এই সংকটে সবচেয়ে বড় 'এক্স ফ্যাক্টর' হলো চীন। ইরানের অধিকাংশ তেলের ক্রেতা হলো বেইজিং। চীন এই অবরোধ মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী কি চীনের গন্তব্যে যাওয়া জাহাজগুলো মাঝপথে আটক করবে বা ডুবিয়ে দেবে? এমনটা ঘটলে সংঘাত ইরানের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইরান এই চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে, নাকি সংঘাত আরও তীব্রতর হবে— তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতির ওপর।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন