শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত: জয়সোয়াল
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৮
শেখ হাসিনা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নয়াদিল্লি এই সংবেদনশীল ইস্যুটিকে প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামোর মাধ্যমে মোকাবিলা করার ইঙ্গিত দিলেও ঢাকার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে আগ্রহী।
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আবেদনটি বর্তমানে
সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, “আবেদনটি বর্তমানে
বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আমরা এই ইস্যুতে
সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে গঠনমূলকভাবে আলোচনা চালিয়ে যাব।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের
মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রত্যর্পণের বিষয়টি
উত্থাপন করে। নয়াদিল্লি এই প্রক্রিয়ার জন্য তাদের নিজস্ব আইন এবং দুই দেশের মধ্যকার
প্রত্যর্পণ চুক্তির বাধ্যবাধকতার ওপর জোর দিচ্ছে।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আনুষ্ঠানিকভাবে
নিষিদ্ধ করার যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে ভারত বেশ সতর্ক ও পরিমিত অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে রণধীর জয়সোয়াল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বৃহত্তর স্বার্থের
কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইতিমধ্যে
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাথে কাজ করার এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা
গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দুই দেশই দ্বিপাক্ষিক মেকানিজমগুলোর মাধ্যমে অংশীদারিত্ব
শক্তিশালী করতে এবং দ্রুতই দাপ্তরিক পর্যায়ের বৈঠক করতে একমত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ
ইস্যুতে নয়াদিল্লি অনেকটা ধীর চলো নীতি গ্রহণ করেছে। একদিকে আইনি প্রক্রিয়া ও চুক্তির
মারপ্যাঁচ, অন্যদিকে বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সাথে দীর্ঘমেয়াদী সুসম্পর্ক বজায় রাখার
চ্যালেঞ্জ—সব মিলিয়ে ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পা ফেলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের
বক্তব্যে “অভ্যন্তরীণ আইনি
প্রক্রিয়া” শব্দবন্ধটি ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত ইঙ্গিত দিয়েছে যে, কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে
পৌঁছানোর আগে তারা তাদের দেশীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও
খতিয়ে দেখবে।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

