Logo

আন্তর্জাতিক

সুদানের মানবিক সংকট: ১০০ কোটির তহবিল ঘোষণা

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৬

সুদানের মানবিক সংকট: ১০০ কোটির তহবিল ঘোষণা

সুদানে চলমান ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক দাতা সম্মেলনে ১০০ কোটি পাউন্ডেরও (প্রায় ১.১৫ বিলিয়ন ইউরো) বেশি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আয়োজকদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি তহবিল সংগৃহীত হয়েছে। তবে বিপুল পরিমাণ এই আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও দেশটিতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনো সুদূরপরাহত।

সুদানে তিন বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধে দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৩ কোটি ৪০ লক্ষ মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ত্রাণ সহায়তায় জার্মান মন্ত্রীরা প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু সম্মেলন শেষে দেখা যায়, আন্তর্জাতিক দাতারা মোট ১.১৩ বিলিয়ন পাউন্ড বা ১১৩ কোটি পাউন্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল এই অর্জনকে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, "বিশ্বজুড়ে যখন মানবিক সহায়তার বাজেট কমছে, তখন ১৩০ কোটি ইউরোর বেশি তহবিল সংগ্রহ হওয়া অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।"

সম্মেলনে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সুদানের বর্তমান পরিস্থিতিকে দুঃস্বপ্ন হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, "নারী ও শিশুরা নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে এবং দেশজুড়ে পদ্ধতিগত যৌন সহিংসতা চলছে। এই সংঘাত বন্ধ না হলে কেবল অর্থ দিয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়।" তিনি অবিলম্বে সুদানে বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ এবং অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানান।

সম্মেলনে আর্থিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও শান্তি আলোচনার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। সুদানের যুদ্ধরত দুই পক্ষআর্মি এবং আধাসামরিক বাহিনী 'র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস' (আরএসএফ)-এর কোনো প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নেয়নি। উল্টো সুদানের সেনাবাহিনী সমর্থিত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সম্মেলনের নিন্দা জানিয়ে একে পশ্চিমা দেশগুলোর উপনিবেশবাদী দৃষ্টিভঙ্গি বলে আখ্যা দিয়েছে। সম্মেলনের বাইরেও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। শত শত বিক্ষোভকারী আরএসএফ-কে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। অন্যদিকে, ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সমর্থন দিচ্ছে না এবং তাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, যা পরবর্তীতে স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পাল্টাপাল্টি হস্তক্ষেপে সুদানের এই ক্ষত কতদিনে শুকাবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন